নেপিডো: মায়ানমারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এক ভয়াবহ ও শক্তিশালী বিস্ফোরণে উড়ে গেছে একের পর এক ঘরবাড়ি। রবিবার উত্তর-পূর্ব মায়ানমারে চিন সীমান্তের নিকটবর্তী একটি গ্রামে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, শক্তিশালী এই বিস্ফোরণের জেরে অন্তত ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৫ জন নারী রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
টিএনএলএ নিয়ন্ত্রিত গ্রামে ভয়াবহতা
বিস্ফোরণটি ঘটেছে মায়ানমারের শান প্রদেশের নামখাম টাউনশিপের কাওংটাট গ্রামে। এই অঞ্চলটি বর্তমানে মায়ানমারের জান্তা সরকারের বিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (TNLA)-র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় মায়ানমারের সামরিক জুন্টা বাহিনীর সঙ্গে টিএনএলএ-র দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে।
প্রাথমিকভাবে এই বিস্ফোরণের ধরন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও টিএনএলএ-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি কোনও সামরিক হামলা নয়। মূলত খনি থেকে পাথর কাটার কাজে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক বিস্ফোরক মজুত রাখা ছিল সেখানে, যা আচমকা ফেটে যাওয়ায় এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধারকাজ
রবিবারের এই জোরালো বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, গোটা গ্রামটিই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। সংবাদ সংস্থা এপি (AP)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় অন্তত ৭০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর জখম হয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে এক উদ্ধারকর্মী জানিয়েছেন: “বিস্ফোরণের পর দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। এ পর্যন্ত জখম ৭৪ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় টাউনশিপ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে গ্রামের প্রায় ১০০টি বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
বিমান হামলার আতঙ্ক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিবিসি-র রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে প্রাথমিক ভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। অনেকেই ভেবেছিলেন জুন্টা সরকার হয়তো বিমান হামলা (Air Strike) চালিয়েছে। তবে পরবর্তীতে টিএনএলএ-র আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পাথর কাটার বিস্ফোরক ফেটে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়।
ভৌগোলিক ও কূটনৈতিকভাবে এই ঘটনার সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনাচক্রে, মায়ানমারের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন আউং হ্লাইং এই মুহূর্তে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে অবস্থান করছেন। রবিবারই নতুন দিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভালের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন তিনি। সেই বৈঠকের আবহেই মায়ানমারের অন্দরে এই বড়সড় বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটল।

