রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিদ্যুৎ বণ্টন ও সরবরাহ বিষয়ক বাজেট আলোচনার জবাবি ভাষণে এই সিদ্ধান্তগুলির কথা জানান তিনি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা (ডব্লিউবিএসইডিসিএল)-র গ্রাহকদের আর তিন মাস অন্তর নয়, প্রতি মাসেই বিদ্যুতের বিল পাঠানো হবে। পাশাপাশি, সাধারণ গৃহস্থ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে স্মার্ট মিটার বসানো যে বাধ্যতামূলক নয়, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
১. সিইএসসি-র ধাঁচে প্রতি মাসে আসবে বিদ্যুতের বিল
ডব্লিউবিএসইডিসিএল-এর অধীনে থাকা গ্রাহকদের দীর্ঘদিন ধরে তিন মাস অন্তর একসঙ্গে বিদ্যুতের বিল মেটাতে গিয়ে আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হতো।
- নতুন সিদ্ধান্ত: বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থা ‘সিইএসসি’ (CESC)-র মতো এবার থেকে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাও প্রতি মাসে গ্রাহকদের বাড়িতে বিল পাঠাবে।
- লক্ষ্য: প্রতি মাসের ছোট ছোট অঙ্কের বিল মেটানো সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ দপ্তর।
২. গৃহস্থালিতে স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক নয়
গত কিছু দিন ধরে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে যে বিভ্রান্তি ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল, বিধানসভার মঞ্চ থেকে তার স্পষ্ট নিরসন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
স্মার্ট মিটার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য: “কেন্দ্রীয় সরকার গৃহস্থালি বা সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে স্মার্ট মিটার বসানোর বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করেনি। তাই সাধারণ গ্রাহকদের এ নিয়ে অকারণে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।”
তিনি আরও জানান:
- সরকারি দপ্তর: আপাতত কেবল সরকারি দফতর ও কার্যালয়গুলিতেই দ্রুতগতিতে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ সম্পন্ন করা হবে।
- সাধারণ গ্রাহক: সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য বর্তমানে চালু থাকা প্রচলিত বিলিং ব্যবস্থাই যথারীতি বহাল থাকবে।
৩. বিনামূল্যে অঙ্গনওয়াড়ি বিদ্যুৎ ও চুরির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’
বিদ্যুৎ বাজেটের আলোচনায় অন্যান্য সামাজিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান:
- বিনামূল্যে বিদ্যুৎ: সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজ্যের সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এবার থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে রাজ্য সরকার।
- বিদ্যুৎ চুরি রদ: বিদ্যুৎ চুরির মতো বেআইনি অপরাধের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করবে। এই ধরনের অপরাধ রুখতে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

