দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে এবং প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে সোমবার থেকে নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে ভারত ও আমেরিকার চার দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। গত ফেব্রুয়ারি মাসে দুই দেশের মধ্যে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির যে রূপরেখা বা কাঠামো স্থির হয়েছিল, এই চার দিনের আলোচনায় মূলত তারই বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
দুই দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব
বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন সে দেশের প্রধান বাণিজ্য আলোচক ব্রেন্ডন লিঞ্চ। অন্যদিকে, ভারতীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে আলোচনার টেবিল সামলাবেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব দর্পণ জৈন।
বাণিজ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মূলত অন্তর্বর্তী চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়গুলি চূড়ান্ত করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। এর পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বিভিন্ন পণ্যের শুল্ক হ্রাস, বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া সরলীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও এই আলোচনায় স্থান পেতে পারে।
চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার দোরগোড়ায় দুই দেশ
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর সম্প্রতি এক বিবৃতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন যে, দু’দেশের মধ্যে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনার প্রায় ৯৯ শতাংশ কাজই ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। মাত্র এক শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার থেকে শুরু হতে চলা চার দিনের এই বৈঠকটি বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
এর আগে, গত এপ্রিল মাসে ওয়াশিংটনে দুই দেশের বাণিজ্য সংক্রান্ত প্রতিনিধিদল এক দফায় বৈঠকে বসেছিল।
পটভূমি ও শুল্কনীতির জটিলতা
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে এই বাণিজ্য চুক্তির আইনি ও কৌশলগত কাঠামো তৈরির বিষয়ে দুই দেশ প্রথম একমত হয়েছিল গত ৭ ফেব্রুয়ারি। সেই সময় একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপে আমেরিকা তাদের দেশে আমদানিকৃত ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্কের হার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করতে সম্মত হয়েছিল।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় ও বর্তমান পরিস্থিতি: পরবর্তী সময়ে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খায় মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্কনীতি। ট্রাম্প প্রশাসনের সেই শুল্কনীতিকে বেআইনি বলে ঘোষণা করে দেয় মার্কিন শীর্ষ আদালত। এই পরিবর্তিত আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই গত এপ্রিলে ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসেছিল দু’দেশ। এবার দিল্লিতে অবশিষ্ট ১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে চুক্তিটিকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়াই দুই পক্ষের প্রধান লক্ষ্য।

