ইন্দো-তিব্বতান বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি)-এর ডিজি শত্রুজিৎ কপূরের ‘সংঘাত জারি’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। অরুণাচল প্রদেশে ভারত-চিন সীমান্তে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতির দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বিদেশ মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে প্রথম বার মুখ খুলল কেন্দ্র। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবাল স্পষ্ট জানান, চিন তাদের নির্ধারিত টহল দেওয়ার নিয়ম বদল করায় অরুণাচলে ভারত-চিন সীমান্তে মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আইটিবিপি প্রধানের মন্তব্য ও রাজনৈতিক শোরগোল লাদাখের গলওয়ানে ভারত-চিন সংঘর্ষের প্রায় ছ’বছর পর আইটিবিপি-র প্রধানের একটি মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার রাজস্থানে আইটিবিপি-র একটি অনুষ্ঠানে শৌর্য কমান্ডোদের কাজের প্রশংসা করতে গিয়ে শত্রুজিৎ কপূর বলেন, ‘‘সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশে মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তা এখনও চলছে।’’ তিনি আরও জানান, সেখানে আইটিবিপি-র শৌর্য কমান্ডোরা অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছেন। যদিও তিনি সরাসরি চিনের নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তাঁর এই মন্তব্যের ইঙ্গিত যে চিনা ফৌজের দিকেই ছিল, তা নিয়ে স্পষ্ট অনুমান তৈরি হয়।
বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিক্রিয়া শুক্রবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবাল বলেন, ‘‘চিনা বাহিনী তাদের নির্ধারিত টহলের নিয়ম থেকে সরে এসেছিল। সেই সময় ভারত-চিন সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে।’’ তবে ঠিক কোন সময়, কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে এই সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে, তার বিশদ ব্যাখ্যায় যাননি তিনি। বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন রণধীর।
পাশাপাশি তিনি আরও জানান, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান করতে এবং যেকোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল হিসাব-নিকাশ এড়াতে ভারত ও চিন উভয় পক্ষই কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজছে।
বিরোধীদের তোপ ও মোদী সরকারের কাছে জবাবদিহির দাবি ২০২০ সালে গলওয়ানে ভারত ও চিনা সেনার সংঘর্ষের পর দিল্লি-বেজিং সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত বছর চিন সফর করেছিলেন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ভারত সফরে এসেছিলেন। এমন এক কূটনৈতিক পরিবেশের মধ্যে আইটিবিপি ডিজি-র এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অরুণাচলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে বিবৃতি দাবি করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, চিনকে আর ‘ক্লিন চিট’ দেওয়া যাবে না এবং দেশের কাছে সমস্ত সত্য তুলে ধরতে হবে। তাঁর মতে, বিরোধীদের আক্রমণ না করে প্রধানমন্ত্রীর উচিত অবিলম্বে সংসদ ও দেশবাসীকে প্রকৃত পরিস্থিতি জানানো।
একইসঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর দাবি, ২০২০-২১ অর্থবর্ষ থেকে ভারতে চিনা আমদানি ১০২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ চিনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১৫৫ শতাংশ।

