রোগীদের সুস্থ জীবনের ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শ দিলেও নিজে চলতেন তার ঠিক বিপরীত পথে। তবে এক রোগীর তীক্ষ্ণ প্রশ্নই শেষপর্যন্ত জীবন বদলে দিল দিল্লির গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. শুভম বৎসের। নিজের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এনে দীর্ঘ তিন বছরের প্রচেষ্টায় বাড়তি মেদ ঝরিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার এক অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প তুলে ধরেছেন এই চিকিৎসক।
ডা. শুভম জানান, বহু বছর ধরে তিনি যেন দ্বিমুখী জীবনযাপন করছিলেন। হাসপাতালের ভেতরে লিভারের যত্ন, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস নিয়ে রোগীদের উপদেশ দিলেও নিজের ব্যক্তিগত জীবনে তা মানতেন না। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তাঁর ওজন পৌঁছেছিল ১১০ কেজিতে। সামান্য হাঁটাহাঁটিতেই হাঁপিয়ে উঠতেন, চেম্বারে বসে রোগী দেখার ফাঁকেই অনিয়মিত খাবার অর্ডার করতেন এবং শরীরের নানা সতর্কতা সংকেত অবহেলা করতেন।
তবে এই ধারায় ছেদ পড়ে এক রোগীর প্রশ্নের পর। এক চিকিৎসাধীন রোগী সরাসরি তাঁকে প্রশ্ন করে বসেন, “আপনি আমাকে কী উপদেশ দেবেন, নিজে তো পেরে উঠছেন না।” ওই কথাটিই ছিল ডা. বৎসের জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। বাড়ি ফিরে আয়নায় নিজেকে দেখে চমকে ওঠেন তিনি—ক্লান্ত চোখ এবং বয়সের চেয়েও বেশি বয়স্ক ছাপ দেখে গ্রাস করে মৃত্যুভয়। সেদিনই নিজের জীবনযাত্রা বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।
কোনো চটজলদি বা ঝুঁকিপূর্ণ উপায় অবলম্বন না করে, ধৈর্য ধরে প্রতিদিন ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে তিন বছরে তিনি অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফেলেন।
উচ্চ ওজনের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে ওজন কমানোর বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে চিকিৎসক বলেন, যাদের ওজন ১০০ কেজির ওপর, তাঁদের শরীরে রক্ত সঞ্চালনের জন্য হৃৎপিণ্ডকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এমতাবস্থায় হঠাৎ কঠোর ডায়েট বা অতিরিক্ত ব্যায়াম শুরু করলে হৃদযন্ত্রের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দ্রুত ওজন কমালে পেশিক্ষয় ঘটে এবং প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের অভাবে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।
ডা. বৎসের মতে, ক্র্যাশ ডায়েটের মাধ্যমে দ্রুত কমে যাওয়া ওজন পরবর্তীতে আবার দ্বিগুণ গতিতে ফিরে আসতে পারে। তাই রাতারাতি নয়, বরং ৩ থেকে ৪ বছর সময় নিয়ে ধীরে ধীরে নতুন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সেই ওজন ধরে রাখাটাই প্রকৃত সুস্থতার চাবিকাঠি।

