মাঝ-আকাশে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলা চালানো ওমানি সহকারী পাইলট চরমপন্থী ইসলামপন্থী মতাদর্শে দীক্ষিত ছিলেন এবং তিনি বিমানটিকে দুর্ঘটনার মুখে ফেলে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন—সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আমেরিকার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ককপিটে ধরা পড়ার পর অভিযুক্ত বারংবার ‘আমাকে মেরে ফেলো’ বলে চিৎকার করছিলেন, যা তাঁর আত্মঘাতী মানসিকতারই প্রমাণ দেয়।
প্রাথমিক তদন্তে ইজরায়েলের দাবি অনুযায়ী হামলাকারী যুবক ওমানের নাগরিক হলেও, এই বিষয়ে ওমান কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নেতানিয়াহু জানান, হামলাকারীর অতীত পর্যবেক্ষণ করে তাঁর চরমপন্থী ঝোঁকের শক্তিশালী ইঙ্গিত মিলেছে। তবে ঘটনার নেপথ্যে ইরানের কোনো প্রত্যক্ষ মদত ছিল কি না বা অন্য কোনো সহযোগী জড়িত রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলতে নারাজ তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করতে তদন্ত জারি রাখা হয়েছে।
ইজরায়েলের দুই গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’ ও ‘শিন বেট’-এর প্রাথমিক অনুমান, হামলাকারী একক উদ্যোগেই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত চক্রের হাত নেই। অন্যদিকে, সৌদি আরবের পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলেও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তদন্তের প্রয়োজনীয় সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে ইজরায়েলি এক আধিকারিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গত বুধবার সকালে ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে এই ঘটনাটি ঘটে। ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে বিমানটি থাকাকালীন সহকারী পাইলট আকস্মিক ছুরি নিয়ে বিমানের প্রধান পাইলট, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর চড়াও হন। একাধিক ছুরিকাঘাতে ক্যাপ্টেন গুরুতর আহত হলে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। চরম বিপর্যয়ের মুখেও অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ককপিটের দরজা খুলে দেন ক্যাপ্টেন স্মিত। যার ফলে যাত্রী ও বিমানকর্মীরা দ্রুত ভেতরে ঢুকে অভিযুক্তকে কাবু করেন। পরবর্তীতে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। ইজরায়েল ইতিমধ্যেই ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ এবং ‘হাইজ্যাকের চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছে।
গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে সৌদির হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তিনি আপাতত সেখানেই চিকিৎসাধীন। গুজরাতি বংশোদ্ভূত এই ভারতীয় পাইলটের অসামান্য সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রনেতারা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁকে ‘নায়ক’ আখ্যা দিয়ে কুর্নিশ জানিয়েছেন। এছাড়া গুজরাত সরকারের পক্ষ থেকে স্মিতকে ‘বিশিষ্ট গুজরাত গরিমা’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে ফ্লাইদুবাই বিমান সংস্থাও। তদন্ত প্রক্রিয়াকালীণ সুরক্ষার স্বার্থে ইজরায়েলে নিজেদের সমস্ত বিমান পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে সংস্থাটি।

