অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামীর অর্থ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা বিতর্কের মাঝেই এবার ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ পুনর্গঠনের দাবি তুলল নির্মোহী আখড়া। ট্রাস্টের বর্তমান পরিকাঠামোকে একটি ‘প্রাইভেট ট্রাস্ট’-এর সমতুল্য বলে অভিযোগ এনে, সেটিকে ‘পাবলিক ট্রাস্ট’ হিসেবে পুনর্গঠন করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তারা।
রামমন্দিরের সার্বিক কাজকর্ম পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে কেন্দ্র গঠিত ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’। নির্মোহী আখড়ার দাবি, এই ট্রাস্টের বর্তমান গঠন কাঠামো এবং পরিচালনার ধরন সুপ্রিম কোর্টের ২০১৯ সালের ঐতিহাসিক রাম মন্দির রায়ের মূল ভাবনার পরিপন্থী। এই প্রেক্ষিতে আখড়ার পক্ষে মহন্ত রাজা রামচন্দ্রাচার্য অতীত গুরু রঘুনাথ দাস শীর্ষ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলাকারী পক্ষের আবেদন, ট্রাস্টের কর্মপদ্ধতি যথাযথভাবে সংশোধন করে একে একটি ‘পাবলিক ট্রাস্ট’-এ রূপান্তরিত করা হোক। একই সাথে, রামানন্দী বৈরাগী সম্প্রদায়ের সাধু-সন্তেরা যাতে ট্রাস্টের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি বা তদারকি করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিক শীর্ষ আদালত। এ ছাড়াও, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ট্রাস্টের সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নির্দেশিকা তৈরি করার আর্জিও জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি রামমন্দিরের প্রণামী চুরির যে অভিযোগ উঠেছে, তা-ও নিজেদের আবেদনে উল্লেখ করেছে নির্মোহী আখড়া। ঘটনার তদন্তে উত্তরপ্রদেশ সরকার কর্তৃক বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের প্রসঙ্গ টেনে মামলাকারী পক্ষ দাবি করেছে, এই ঘটনাটিই প্রমাণ করে যে বর্তমান কার্যপদ্ধতিতে ট্রাস্ট প্রণামীর অর্থের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অযোধ্যার রামমন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ ইতিমধ্যে আটজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রণামী চুরির প্রমাণ মিলেছে। ধৃতরা সকলেই রামমন্দির ট্রাস্টের পদাধিকারী এবং সদস্যদের একাংশের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত। আগামী সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই প্রণামী চুরি মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই নির্মোহী আখড়ার এই ট্রাস্ট পুনর্গঠনের মামলা অযোধ্যার সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

