আর্থিক প্রতারণা এবং তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার হওয়া পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক অজিত মাইতিকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। শুক্রবার গ্রেপ্তারের পর তাঁকে মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (সিজেএম) আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতের নির্দেশ ও আইনি ধারা
পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে পাঁচ দিনের হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছিল। শুনানি শেষে বিচারক চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব জানান, ধৃত প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৮৬ ধারা (তোলাবাজি) এবং ৫০৬ ধারা (হুমকি) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে।
কী অভিযোগ অভিযোগকারীর?
প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার মূল অভিযোগ এনেছেন গোবিন্দ দাস। মেদিনীপুর আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি থাকাকালীন জেলা সভাপতি অজিত মাইতি তাঁকে ব্লক সভাপতি পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৫ লক্ষ টাকা নেন। কিন্তু তাঁকে পদ দেওয়া তো দূরে থাক, উল্টে অঞ্চল সভাপতির পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, সেই সময় হোম লোন নিয়ে ওই টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পদ ও টাকা কোনোটাই না পাওয়ায় বাড়ি তৈরি করা সম্ভব হয়নি এবং পরবর্তীতে ব্যাঙ্ক তাঁর সেই বাড়ি নিলাম করে দেয়। প্রভাবশালী হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন তিনি কিছু বলতে পারেননি। বর্তমানে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অজিতের সম্পত্তির উচ্চপর্যায়ী তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের দাবি অজিত মাইতির
আদালত থেকে ডেবরা থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে অজিত মাইতি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং কল্পনাপ্রসূত। তিনি বলেন, “আমি সারাজীবন রাজনীতি করেছি। কোনো দিন এমন অভিযোগ আসেনি। পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং চক্রান্ত।”
তিনি আরও জানান, অভিযোগকারী বর্তমানে বিজেপি কর্মী এবং ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূলে ছিলেন কি না তা তাঁর জানা নেই। তবে পুলিশ-প্রশাসন ও আদালতের ওপর তাঁর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানান অজিত।
পুলিশের বক্তব্য
এই গ্রেপ্তারির বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানান, অভিযোগকারীকে নির্দিষ্ট পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া হয়েছিল এবং টাকা দিতে না পারায় তাঁকে আগের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার পরও প্রতিশ্রুত পদ না দেওয়ায় অভিযোগকারী টাকা জমার রিসিট বা প্রমাণ জমা দেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

