বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৪-৬ ব্যবধানে হেরে পদক হাতছাড়া করার পরেই ফরাসি শিবিরে চরম অসন্তোষ ও অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিল। দলের এই চরম ব্যর্থতার পর সতীর্থদের একাংশের দিকে সরাসরি আঙুল তুললেন ফ্রান্সের মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন হাবিয়ো। তাঁর অভিযোগ, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচটিতে দলের বেশ কয়েক জন খেলোয়াড় চরম দায়সারা মনোভাব নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন এসি মিলানের এই ফুটবলার। কোনও রকম রাখঢাক না করেই হাবিয়ো বলেন, ‘‘প্রথমার্ধে আমাদের পারফরম্যান্স অত্যন্ত লজ্জাজনক ছিল। কয়েক জন সতীর্থের আচরণ দেখে আমি রীতিমতো বিস্মিত হয়েছি, যা এর আগে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কখনও দেখিনি। বিষয়টি সত্যিই হতাশাজনক। বিশ্বকাপে দেশের জন্য ছাপ ফেলার এটাই আমাদের শেষ সুযোগ ছিল। আমরা মাঠে যা করেছি, তা সহজে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। এটা ঠিক যে, স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে হেরে আমরা সবাই খুব ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু সেটাই বাস্তব ছিল। তা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের নিজেদের সেরাটা দিয়ে কাজ করে যাওয়া উচিত ছিল।’’
দ্বিতীয়ার্ধে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে ক্ষুব্ধ হাবিয়ো আরও যোগ করেন, ‘‘এমন বাজে ভাবে সব কিছু হাতছাড়া করার পর কোনও ভাবেই সন্তুষ্ট হওয়া যায় না। বিরতির সময় আমরা নিজেদের কিছুটা গুছিয়ে নিতে পেরেছিলাম। আমি সতীর্থদের বলেছিলাম, অন্তত নিজেদের আত্মসম্মানের স্বার্থে লড়তে হবে, কিছু একটা করে দেখাতে হবে। তার পর দ্বিতীয়ার্ধে আমরা বেশ ভাল খেলেছি। তবে আমি পরিষ্কার করেই বলছি, প্রথমার্ধে কয়েক জনের আচরণ কোনো মতেই গ্রহণযোগ্য ছিল না।’’ তবে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও নির্দিষ্ট করে কোনও সতীর্থের নাম নেননি এই ফরাসি মিডফিল্ডার।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই ম্যাচটিই ছিল ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের সফল কোচ দিদিয়ের দেশঁর শেষ ম্যাচ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দেশঁ ঘোষণা করেছিলেন যে, বিশ্বকাপের পর তিনি কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন। বিদায়ী কোচের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে হাবিয়ো বলেন, ‘‘আমি আমাদের কোচের কথা বলতে চাই। এটি ওঁর শেষ ম্যাচ ছিল। আমাদের সব সাপোর্ট স্টাফেরা অসম্ভব পরিশ্রম করেছেন এবং সমস্ত ফুটবলারদের নিয়ে দলটাকে আবার বিশ্বফুটবলের শীর্ষে ফিরিয়ে এনেছিলেন। আমাদের এটা মনে রাখা উচিত ছিল। আমরা একটা জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে চেয়েছিলাম, যাতে কোচের বিদায়টা সুন্দর ও স্মরণীয় করা যায়। এতে হয়তো ব্রোঞ্জ পদক ছাড়া আর কিছু বদলাতো না, কিন্তু এ টুকু তো আমাদের করাই উচিত ছিল। অবশ্য ফরাসি ফুটবল এবং দেশের মানুষের কাছে এত বছর ধরে দেশঁর যে সম্মান ও ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তা এই একটি হারে সামান্যতম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’’

