‘রাজ্যে ১৭ আসন বিজেপির’, সাংগঠনিক সমীক্ষা রিপোর্ট নিয়ে উল্লসিত গেরুয়া শিবির

কোন সমীক্ষা কী বলছে তাতে কর্ণপাত না করে সাংগঠনিক সমীক্ষার উপরেই ভরসা করছে বিজেপি। আর সেই সমীক্ষার ভিত্তিতে তাদের প্রত্যাশা পশ্চিমবঙ্গে ১৭ আসনে জয় নিশ্চিত বিজেপির। ইতিমধ্যেই রাজ্য বিজেপির প্রথমসারির নেতারা সেই ১৭ আসন ধরে ছক সাজাতে শুরু করেছেন। এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে সভাপতি অমিত শাহ সাত দফায় কোন কোন জায়গায় সমাবেশ করবেন সেটাও ঠিক করা হয়েছে ওই সমীক্ষা রিপোর্টের উপরে ভরসা করে।

কিন্তু কোন হিসেবে রাজ্যে ১৭টা আসন পাবে বিজেপি? একটা সময় পর্যন্ত ২৭টি আসনকে পাখির চোখ করে এগোনো বিজেপি এখন ১৭ আসন বলছে কেন! এর স্পষ্ট জবাব না দিলেও কেন্দ্রীয় সংগঠনের সঙ্গে সমীক্ষায় যুক্ত রাজ্য নেতার দাবি, যে ফর্মুলায় ২০১৪ সালে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যের সমীক্ষা চালানো হয়েছিল সেই নীতি মেনেই তৈরি হয়েছে ১৭ আসনে জয়ের সম্ভাবনা। আর এই রিপোর্ট মিলে যাওয়ার সম্ভাবনাও ষোল আনা।

তিনি আরও জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গোটা দেশের বুথ অনুসারে রিপোর্ট রয়েছে। কোন রাজ্যের কোন আসনে কোন বুথে কত জন পার্টি সদস্য থেকে সমর্থক সব রিপোর্ট রয়েছে। এর সঙ্গে কোথায় কংগ্রেস ও সিপিএমের কত ভোট বিজেপিতে আসতে পারে তার হিসেবও রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে বুথ অনুসারে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের হিসেব। এই রাজ্যে প্রতিষ্ঠানবিরোধী যে হাওয়া রয়েছে তার হিসেবও বাদ দেয়নি অমিত শাহর সমীক্ষা দফতর। আর তার থেকেই উঠে এসেছে এই রাজ্যে ১৭ আসনে জয়ের সম্ভাবনা।

কিন্তু কোন কোন আসন রয়েছে এই ১৭-র তালিকায়? না, এ নিয়ে একেবারেই মুখ খুলতে রাজি নন ওই নেতা। তিনি বলেন, “এটা একেবারেই সাংগঠনিক হিসেব। আমাদের কাছে তো ৪২টা কেন্দ্রই পাখির চোখ। এই রাজ্যে যে পরিবেশ রয়েছে তাতে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। তবে ১৭টি আসনে জয় নিশ্চিত। এর থেকে বাড়তে পারে, কমবে না।”

শুধু এটাই নয়, কোন আসনে কোন কোন ইস্যুতে নির্ভর করে ভোট লড়তে হবে তার রূপরেখাও কেন্দ্রীয় ভাবেই রাজ্যকে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির ওই সূত্র। জানা গিয়েছে, সব থেকে বেশি জোর দেওয়া হবে নরেন্দ্র মোদী সরকারের পাঁচ বছরের বিভিন্ন প্রকল্পে। স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের আওতায় শৌচাগার নির্মাণ থেকে বাড়ি বাড়ি এলপিজি গ্যাস পৌঁছানো, দেশে করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি থেকে কর্মসংস্থান, আয়ুষ্মান ভারত, কৃষকদের বছর ছ‍-হাজার টাকা অনুদান ইত্যাদি দশটি ইস্যুতে জোর দিতে বলা হয়েছে ওই রিপোর্টে। তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির থেকেও বেশি করে তুলে ধরতে বলা হয়েছে ভারতের বিদেশ নীতি। পুলওয়ামা কাণ্ডের পরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথা ফলাও করে বলতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সমাবেশের পরেই এই নীতি পুরোপুরি কার্যকর হবে। সেই মতো প্রচার পুস্তিকার নকশাও করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এর পরেও ‘নিশ্চিত’ বলে মনে করা সম্ভাবনাময় ১৭টি আসনের জন্য বিশেষ পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজেপির ওই সূত্র।

এই প্রসঙ্গে রাজ্যে বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “কোনও সংখ্যা নিয়ে এখন কিছু বলার সময় নয়। আমরা যে বিপুল জয় পেতে চলেছি তা বাংলার জনতা ইতিমধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছে। প্রচারে তার সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আর সব থেকে বেশি বুঝতে পেরেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের ভয়ই বুঝিয়ে দিচ্ছে বিজেপির সাফল্য নিশ্চিত।”

পিনাকপাণি ঘোষ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.