‘ইউরোপে সন্ত্রাস: ইসলামোফোবিয়া না ইসলামোফ্যাসিজম?’

পশ্চিম ইউরোপের মানুষরা উচ্ছন্নে গেছে। বিশেষ করে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানী। তাদের Anti Racism এবং Political Correctness তাদের দেশকে ধ্বংস করে দেবে।

জেহাদী মুসলমানদের অসংখ্য জঙ্গী হামলা এই দেশগুলোতে গত 10 বছর ধরে হয়ে চলেছে। শুধু গুলি, বোমা, বন্দুক, বিষ্ফোরক দিয়ে নয়, বহুবার ভিড়ের উপর বিরাট ভারী ট্রাক চাপিয়ে দিয়ে কাফের হত্যা করেছে বন্দুক বিহীন জেহাদী ড্রাইভার।
এই গত বুধবারও ফ্রান্সে একটি গীর্জায় ঢুকে একজন জেহাদী ওই গীর্জার পাদ্রীর গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করল। সে গীর্জা থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করেছে।

গোটা ইউরোপে এই ঘটনার যেন শেষ নেই। ওই জেহাদী তো নিজের মৃত্যু জেনেই এই কাজ করতে গিয়েছিল। কারণ, এ ছিল তার ধর্মের প্রেরণা। তার ধর্মের নির্দেশ।
তাই, অতি সহজ কথা, ওই ধর্মকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দেশের স্বার্থে, মানুষের জীবন রক্ষার জন্য, মানবিকতাকে বাঁচানোর জন্য।

কিন্তু পশ্চিম ইউরোপের নিয়ন্ত্রকরা একথা মানতে নারাজ। তারা ইসলামের নামই মুখে আনতে রাজী নয়। যেন তারা লজ্জাবতী বধূ, আর ইসলাম তাদের ভাসুর ঠাকুর। যদি বা কখনো ইসলাম এর নাম তারা নেয়, তাও ইসলাম কে ডিফেন্ড করার জন্য। তারা বলে, জঙ্গীদের এইসব হিংসাত্মক কার্যকলাপের জন্য মুসলিম সমাজ ও ইসলাম ধর্মকে দায়ী করা “ইসলামোফোবিয়া”, এবং সেটা খুব খারাপ। পশ্চিম ইউরোপের রাষ্ট্রনায়ক, সরকার, মন্ত্রী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সম্পাদক, অধ্যাপক, সবাই সাধারণ মানুষকে সারাক্ষণ উপদেশ দিচ্ছে, ইসলামোফোবিয়া খুব খারাপ। হিটলারের নাজী মতবাদের মতো। এর ফলে সাধারণ মানুষ চোখের সামনে ওই ধর্মান্ধতা ও ধর্মীয় হত্যালীলা দেখেও মুখ খুলতে পারে না। একের মত অপরের মতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জনমত তৈরী করতে পারে না। ফলে এই ধর্মীয় হত্যালীলা চলতেই থাকে, চলতেই থাকে।

আমার স্পষ্ট মত, এটা একটা মানসিক বিকৃতি ও বৌদ্ধিক দেউলিয়াপনা।
আশ্চর্যের কথা, এই বিকৃতি থেকে কিন্তু পূর্ব ইউরোপ অনেকাংশে মুক্ত। এই পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিই আগে বামপন্থী ও কমিউনিস্ট ছিল। পশ্চিম ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলির এই ভিন্ন মানসিকতা ও আচরণের কারণ আমি এখনও বুঝতে পারিনি।

অ্যান্টি রেসিজম এর নামে “ইসলাম কে ছোঁয়া যাবে না” এই সর্বনাশা বিকৃতির বিরুদ্ধে ইউরোপে যারা লড়াই করছেন তারা অসীম সাহসী। তাদের কাজকে মেন স্ট্রিম সমাজ মনের ভিতরে সমর্থন করলেও তা সাহস করে বলতে পারছে না। এই যোদ্ধাদের দিকে স্বীকৃতি ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারছে না। এরকমই একজন মানবিকতার যোদ্ধা টমি রবিনসন এর সঙ্গে আমার লন্ডনে সাক্ষাৎ হয়েছিল। লন্ডনের অবস্থা এমন যে টমির সঙ্গে দেখা করে আমি কারো কাছে বীরপুরুষ, আর কারো কাছে অচ্ছুত হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ সে তো “রেসিস্ট”! আমাদের সাক্ষাৎকার ইউ টিউবে পাওয়া যায়।
ফ্রান্সে গত বুধবারের ঘটনা: ভিডিও টা দেখুন।

 শ্রী তপন ঘোষ 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.