গত বৃহস্পতিবার সন্ধেয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দেশ জুড়ে ১৮৪ টি আসন এবং এ রাজ্যে ২৮ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তাঁরা। প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। কারণ প্রার্থী তালিকা যেমন হওয়ার কথা বলা হয়েছিল তেমনটা হয় নি বরং বাড়িয়েছে জল্পনা। বাজপায়ী আমলের উপ – প্রধানমন্ত্রী লাল কৃষ্ণ আদবানীর নাম বাদ যাওয়ায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপিকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি। আদবানী জির রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটল বলেও মনে করছেন অনেকে।

বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের নাম প্রত্যাশামতই বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় নেই। সুষমা অবশ্য জানিয়েছিলেন এবার প্রতিদ্বন্দিতা করতে চান না তিনি।

গত পাঁচ বছরে বিদেশমন্ত্রী হিসেবে সুচমা স্বরাজের সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রশংসা পেয়েছে বিভিন্ন মহলে। রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তান বিরোধী কড়া বার্তা মনে রাখবে ভারত। যখনই কোনও ভারতীয় বিশ্বের কোনও প্রান্তে বিপদে পড়েছেন, তাঁর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সুষমা। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে আটকে থাকা মুক ও বধির ভারতীয় মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন সুষমা।

১৯৭০-এর দশকে অখিল ভারতীয় বিদার্থী পরিষদের হাত ধরে রাজনৈতিক জীবন শুরু সুষমার। স্বামী স্বরাজ কৌশাল ছিলেন সমাজতান্ত্রিক নেতা জর্জ ফারনান্দেজের খুব কাছের মানুষ। ১৯৭৫ সালে জর্জ ফারনান্দেজের আইনি প্রতিরক্ষা দলের একটি অংশ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন সুষমা। জয় প্রকাশ নারায়নের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। জরুরি অবস্থার পর, তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত হরিয়ানা বিধানসভার সদস্য ছিলেন। মাত্র ২৫ বছর বয়সে আম্বালা সেনানিবাস বিধানসভা আসন অর্জন করেন। ১৯৭৭ এর জুলাইয়ে জনতা পার্টি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

১৯৭৯ সালে ২৭ বছর বয়সে জনতা পার্টির (হরিয়ানা) রাজ্য সভাপতি হন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০-এ ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে হরিয়ানার শিক্ষামন্ত্রী হন। ১৯৯৮ এর অক্টোবরে দিল্লির প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন । ১৯৯০ সালের এপ্রিল মাসে তিনি রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন। দক্ষিণ দিল্লি থেকে ১১তম লোকসভা নির্বাচনে জয় লাভ করেন। প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ীর ১৩ দিনের সরকারে তথ্য ও সম্প্রচার দপ্তরের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন। ১৯৯৮ সালের মার্চ মাসে দক্ষিণ দিল্লী সংসদীয় এলাকা থেকে ১২তম লোকসভা নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হন।

বাজপেয়ী সরকারের অধীনে, ১৯ মার্চ ১৯৯৮ থেকে ১২ অক্টোবর ১৯৯৮ টেলিযোগাযোগ দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারের মন্ত্রকের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কর্ণাটকের বল্লারি এলাকা থেকে কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করার জন্য বিজেপি তাকে মনোনীত করে। প্রচারের সময় তিনি কন্নড় ভাষায় প্রকাশ্য সভায় বক্তব্য দেন। কিন্তু ৭ শতাংশ মার্জিনে নির্বাচনে হেরে যান। ২০০০ সালের এপ্রিলে উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় ফিরে আসেন।এ বছরই ৯ নভেম্বর উত্তরপ্রদেশ থেকে তথ্য – সম্প্রচার মন্ত্রকের দায়িত্বও প্রাপ্ত হিসেবে মন্ত্রীসভায় অভিষিক্ত হন। স্বাস্থ্য, পরিবার কল্যাণ ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে ২০০৩ এর জানুয়ারি থেকে ২০০৪ এর মে পর্যন্ত দায়িত্বাধীন ছিলেন। ২০০৯ এ মধ্য প্রদেশের বিদিশা লোকসভা এলাকা থেকে ১৫তম লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ২০১৪ সালের মে থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সামলাচ্ছেন তিনি। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়ল এহেন দুঁদে রাজনীতিবিদের নাম। যা নিঃসন্দেহে আদবানিজীর পথেই জল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.