রাজ্যপালেরা সাধারণত রাজনীতির উর্ধ্বে থাকেন। কিন্তু রাজস্থানের রাজ্যপাল কল্যাণ সিং খুব খোলাখুলি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করলেন। লোকসভা ভোটের আগে তিনি বললেন, দেশ ও সমাজের স্বার্থে নরেন্দ্র মোদীর ফের নির্বাচিত হওয়া জরুরি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যপালের মতো একটি সাংবিধানিক পদে থেকে কল্যাণ সিং কীভাবে ওই মন্তব্য করতে পারেন?

কল্যাণ সিং-এর নিজের শহর আলিগড়ে বিজেপি কর্মীরা প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ সিং। ক্যামেরার সামনেই তিনি মোদীর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আমরা বিজেপি কর্মী। সেকথা মেনে নিলে বলতে হয়, আমরা নিশ্চয় চাই বিজেপি জিতুক। প্রত্যেকেই চাই, মোদীজি আর একবার প্রধানমন্ত্রী হোন। দেশ ও জাতির স্বার্থেই তাঁর আরও একবার প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত।

আলিগড়ে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন সতীশ গৌতম। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের বক্তব্য, তিনি একবারও ওই নির্বাচন ক্ষেত্রে আসেননি। তাঁদের কয়েকজন গত শনিবার কল্যাণ সিং-এর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে আসেন। রাজস্থানের রাজ্যপাল তাদের বুঝিয়ে বলেন, পার্টির সিদ্ধান্ত সকলেরই মেনে নেওয়া উচিত।

কল্যাণ সিং-এর বয়স ৮৭। তিনি দু’দফায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর করসেবকরা যখন বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলে, তখন তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। মসজিদ ভাঙার পরে তাঁর সরকারকে বরখাস্ত করা হয়।

১৯৯৯ সালে কল্যাণ বিজেপি ত্যাগ করেন। ২০০৪ সালে ফের দলে যোগ দেন। ২০০৯ সালে ফের দল ছাড়েন। সেবার এটাওয়া লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নির্দল প্রার্থী হিসাবে এবং জয়ী হন। সেবছরই তিনি ঘোষণা করেন, ভোটে প্রচার করবেন সমাজবাদী পার্টির নেতা মুলায়ম সিং যাদব ও তাঁর ছেলে অখিলেশ সিং যাদবের বিরুদ্ধে। তাঁর ছেলে রাজবীর সিং সরাসরি সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দেন।

পরে মুলায়ম অভিযোগ করেন, কল্যাণ প্রচার করায় ক্ষতিই হয়েছে তাঁর দলের। মুসলিম ভোটাররা সমাজবাদী পার্টি থেকে মুখ ফিরিয়েছেন। ২০১০ সালে কল্যাণ জন ক্রান্তি পার্টি নামে একটি দল গঠন করেন। ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে তাঁকে রাজ্যপাল নিয়োগ করা হয়। কল্যাণ সিং-এর মন্তব্য সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বলা হয়েছে, সাংবিধানিক পদে থেকে কেউ কোনও প্রার্থীর জন্য প্রচার করতে পারেন না। কিন্তু কল্যাণের বিরুদ্ধে কেউ রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.