পঞ্চান্ন বছরের থেকে এগিয়ে থাকবে পঞ্চান্ন মাস

সে এক দেশ ছিল বটে আমাদের। যখন ভারতবর্ষ বলতে বোঝাত অগুণতি ছোটো ছোটো শহর আর লক্ষ লক্ষ গ্রাম। ছোটো শহরে যারা থাকতেন, নাগরিক সুখস্বাচ্ছন্দ্য সম্পর্কে তাদের বেশিরভাগেরই কোনও ধারণা ছিল না। আর গ্রাম? দারিদ্র্যের চাপে নুয়ে পড়া সেইসব গ্রামে মানুষ থাকতে বাধ্য হতেন, কারণ থাকা ছাড়া তাদের আর কোনও উপায় ছিল না।
সম্প্রতি কংগ্রেস নেতৃত্বের একাংশ এবং মিডিয়া সেই ঝাপসা হয়ে যাওয়া ভারতের স্মৃতি উসকে দিয়েছে। তাদের আহ্লাদের কারণ গুজরাটে প্রিয়াঙ্কা বঢ়রার সভায় ভিড়। অনেকদিন ধরেই মিডিয়া একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রিয়াঙ্কার রাজনীতিতে আসার অর্থ হলো, আর কংগ্রেসকে রোখা যাবে না। তিনি আসবেন, দেখবেন এবং জয় করবেন। মিডিয়া এবং কংগ্রেসের এই বস্তাপচা বিশ্বাসের পিছনে রয়েছে সেই পুরনো ভারতবর্ষের ছবি। যখন আমজনতার কাছে গান্ধী পরিবারের সদস্যরা ছিলেন রাজবংশের প্রতিনিধি স্বরূপ। তাদের ইংরেজি ঘেঁষা হিন্দি উচ্চারণ, উজ্জ্বল গাত্রবর্ণ, দেবদুর্লভ চেহারা এবং দামি পোশাক-আশাক দেখে প্রশ্নাতীত আনুগত্যে আত্মসমর্পণ করতেন ভারতীয়রা। কিন্তু এই ভারত সেই ভারত নয়। ১৯৯১ সালের পর যারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তাদের মধ্যে পি.ভি. নরসিমহা রাও, অটলবিহারী বাজপেয়ী এবং নরেন্দ্র মোদী ঔপনিবেশিক ভারতের প্রতিনিধি নন। তারা সনাতন ভারতবর্ষের প্রতিনিধি। আমজনতার প্রতিনিধি। সুতরাং মিডিয়া এবং কংগ্রেস যতই গেলানোর চেষ্টা করুক, ইন্দিরা গান্ধীর পক্ষে যা সম্ভব হয়েছিল প্রিয়াঙ্কার পক্ষে তা আদপেই সম্ভব নয়।
সভায় প্রিয়াঙ্কা তিনটি প্রশ্ন তুলেছেন। চাকরি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কৃষক সমস্যা নিয়ে। যদিও কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে এইসব ক্ষেত্রে কী ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করবে তাই নিয়ে তিনি বিশেষ মুখ খোলেননি। তবুও তার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার একটা চেষ্টা করা যেতে পারে।
প্রথমে চাকরি। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, নতুন চাকরি সৃষ্টিতে মোদী সরকার ব্যর্থ। দেশে এত বেকার নাকি আগে কখনও ছিল না। কয়েকটি প্রয়োজনীয় তথ্য তারা যদি মনে রাখেন তাহলে ভালো করবেন। আগেকার প্রতিটি সরকার যে পরিমাণ জাতীয় সড়ক নির্মাণ করেছে তার থেকে ২.২৫ গুণ বেশি নির্মাণ করেছে মোদী সরকার। রেলপথ নির্মাণের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। পাওয়ার গ্রিড বাড়ানো হয়েছে ২ লক্ষ কিলোমিটার। ৮ কোটি শৌচালয় তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় আড়াই কোটি বাড়ি তৈরি হয়েছে। অনেকগুলি সেচ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। মুদ্রা ঋণ যোজনায় ঋণ পেয়েছেন ১৩ কোটি বেকার ছেলেমেয়ে। প্রশ্ন হলো, এই বিপুল কর্মকাণ্ড কি কর্মসংস্থান করেনি?বাড়তি লোক না নিয়ে কি এই দুরূহ লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছনো যায়? এক কথায় এ প্রশ্নের উত্তর, যায় না। কিছুদিন আগে শিল্প সমীক্ষক সংস্থা সিআইআই ভারতের ২৮টি রাজ্যের ৩৫০টি শিল্পক্ষেত্রে সমীক্ষা করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে গত চার বছরে ১৪.৯ কোটি নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রে কর্মসংস্থানে প্রতি বছর গড় বৃদ্ধি ৩.৩ শতাংশ। এই বৃদ্ধির কারণ সরকারের দুটি সিদ্ধান্ত। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ২ শতাংশ সুদ হ্রাস এবং ট্রেড রিসিভেবল-ই-ডিসকাউন্টিং ব্যবস্থার (টি আর ই ডি এস) প্রবর্তন। প্রিয়াঙ্কা বঢরা সম্ভবত এইসব তথ্য সম্বন্ধে খুব একটা খোঁজখবর রাখেন না। নরেন্দ্র মোদী প্রায়ই বলেন, কংগ্রেসের পঞ্চান্ন বছরের শাসনের পাশে তার পঞ্চান্ন মাস অনেকাংশেই উজ্জ্বল। কথাটির সারবত্তা বোঝা যাবে প্রিয়াঙ্কা বঢরার দ্বিতীয় অভিযোগটির সত্যতা বিশ্লেষণ করলে। অভিযোগটি নারীর ক্ষমতায়নের। প্রিয়াঙ্কার মতে ভারতে মেয়েরা নিরাপদ নন। তাদের ক্ষমতায়নের জন্যেও এই সরকার কিছু করেনি।
বস্তুত, রাজনৈতিক মতবিনিময় নামক প্রাজ্ঞজনের কাজটিকে রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা যে-শিশুসুলভ দোয়ালায় নামিয়ে এনেছেন, তা দেখে সম্ভবত ঘোড়াও হাসবে। ভাই-বোনকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, মোদী সরকারের আমলেই তিন তালাক বিল পাশ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নারীর ক্ষমতায়ন-প্রয়াসের এর থেকে উৎকৃষ্ট উদাহরণ সারা পৃথিবীতে আর একটিও নেই। ভারতবর্ষের মুসলমান মহিলারা বহু বছর ধরে সামন্ততান্ত্রিক বিবাহ বিচ্ছেদ প্রথার শিকার। মুসলমান পুরুষেরা পারসোনাল ল’য়ের ছত্রছায়ায় থেকে ফোনে, ফেসবুকে—এমনকী কাগজের টুকরোয় তিনবার তালাক লিখে বিয়ে ভেঙে দিতেন। মুহূর্তের মধ্যে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতেন মুসলমান মহিলারা। এদের মধ্যে অনেকেই খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য দেহব্যবসায় নামতে বাধ্য হতেন। আত্মহত্যাও করেছেন অনেকে। প্রিয়াঙ্কা কি বলতে চান, তিন তালাকের শিকার এইসব মহিলারা নারী নন? তাদের ক্ষমতায়নের প্রয়োজন নেই?
অবশ্য প্রিয়াঙ্কা যদি এরকম বলেন বা ভাবেন, তাহলে তাকে দোষ দেওয়া যায় না। চার দশক আগে তিন তালাকের শিকার এক হতভাগিনীর ঘরে ফেরার আরজির মধ্যে প্রিয়াঙ্কার বাবা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী কোথাও কোনও মানবিকতা খুঁজে পাননি। এবং শেষ পর্যন্ত, ইসলামিক কট্টরতা ও পুরুষতন্ত্রের কাছে নতিস্বীকার করে ভোট হারাবার ভয়ে পালিয়ে বেঁচেছিলেন। মহিলাদের সঙ্গে যে বিশ্বাসঘাতকতা সেদিন কংগ্রেস করেছিল, নরেন্দ্র মোদী তারই প্রায়শ্চিত্ত করেছেন। বিশ্বাসঘাতকতার ধারাবাহিকতা অবশ্য কংগ্রেস বজায় রেখেছে। নরেন্দ্র মোদীর প্রয়াস যাদের বাধায় পরিপূর্ণতায় পৌঁছতে পারেনি তাদের শীর্ষে রয়েছে কংগ্রেস। কারণ সেই একই। বিল সমর্থন করলে মুসলমানরা ভোট দেবে না। সুতরাং ক্ষমতায় থাকার জন্য, দুর্নীতিতে আকণ্ঠ ডুবে থাকার জন্য যদি মুসলমান মহিলাদের সর্বনাশ হয় তো হোক।
প্রিয়াঙ্কা এইরকম এক বংশের সন্তান। এইরকম এক দলের নেতা। তার তৃতীয় অভিযোেগ কৃষকদের নিয়ে। মোদী সরকার কৃষিঋণ মকুব করেনি। অর্থাৎ কিছু করেওনি। মোদী সরকারের কৃষিনীতির ধরনটা বোঝার চেষ্টা করলে প্রিয়াঙ্কা নিজেই তার অভিযোগের অসারতার প্রমাণ পেতেন।
ঋণ মকুবের মতো নগদ বিদায়ের রাজনীতি করলে কৃষকের সাময়িক উপকার হয়। শাসক দলেরও রাজনৈতিক মুনাফা হয় কিন্তু কৃষকের দীর্ঘমেয়াদি কোনও উপকার হয় না। মোদী সরকারের লক্ষ্য কৃষকের দীর্ঘমেয়াদি উপকার। তাছাড়া, যত অমানবিকই হোক, এই প্রসঙ্গে একটি প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। মুষ্টিমেয় কয়েকজন কৃষক ঋণ শোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে লক্ষ লক্ষ কৃষকের ঋণ মকুব করা যায় কি? সরকারের টাকা মানে করদাতাদের টাকা। দেশের টাকা। রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। সেই টাকা রাজনৈতিক মুনাফার জন্য নয়ছয় করলে রাজস্বে ঘাটতি দেখা দেয়, মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে এবং জিনিসপত্রের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যায়। ইউপিএ আমলে এই ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে আবারও ঘটবে। গুজরাটের সভায় প্রিয়াঙ্কা জোর গলায় বলেছেন হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্য—মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, রাজস্থানে ক্ষমতায় ফিরেই কংগ্রেস কৃষিঋণ মকুব করেছে। ভালো কথা। কিন্তু কাদের ঋণ মকুব করেছে কংগ্রেস ? রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে যারা ঋণ নিয়েছেন কিংবা মহাজনের কাছ থেকে তাদের ঋণ মকুব করতে পেরেছে কি কংগ্রেস ? ক্ষুদ্র চাষিদের কতটা উপকার হয়েছে? আর, কী উদ্দেশ্যে কংগ্রেস কর্পোরেট ফার্মিং সংস্থার ঋণ মকুব করে দিল ? বলা বাহুল্য, এসব প্রশ্নের উত্তর প্রিয়াঙ্কা দেননি।
এবার দেখা যাক কৃষকদের জন্য মোদী সরকার ঠিক কী করেছে। সারাদেশে ৫০০টি ই-মন্ডি তৈরি হয়েছে। যেখানে কৃষকেরা ফড়ে এবং আড়কাঠিদের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি ক্রেতাদের ফসল বিক্রি করতে পারছেন। ফসলের দামে অন্য কেউ ভাগ না বসানোর ফলে কৃষকেরা অনেক বেশি লাভ করছেন। ফসলের সহায়ক মূল্য দেড় গুণ বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্র। কৃষককে দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে ইউরিয়া, সয়েল হেলথ কার্ড এবং বন্যা ও খরায় সরকারি সাহায্য। সারা দেশে জলসেচ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। এমনকী যেসব প্রকল্পের কাজ ৩৫ বছর আগে শুরু করেও শেষ করা যায়নি, মোদী সরকারের আমলে সেই কাজ শেষ হয়েছে রকেটের গতিতে। অন্নদাতা প্রকল্পের অঙ্গ হিসেবে প্রত্যেক কৃষককে বছরে ৬,০০০ টাকা করে বিশেষ ভাতা দেওয়ার কাজ শুরু করেছে কেন্দ্র। মাত্র চার মাসে পনেরো লক্ষ কৃষকের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তা পৌঁছেও গেছে। ইউপিএ আমলে কৃষিখাতে ব্যয়বরাদ্দ ছিল ১.২১ লক্ষ কোটি টাকা। মোদী সরকারের জমানায় ২.১১ লক্ষ কোটি টাকা। সুতরাং প্রিয়াঙ্কা যদি ভালো করে জেনে বুঝে তারপর অভিযোগ করেন সেটা তার পক্ষে ভালো হবে। অন্যথায় তিনি রাহুল গান্ধীর বোন হিসেবেই জনমানসে চিহ্নিত হবেন। নিজেই প্রমাণ করবেন ইন্দিরা গান্ধীকে নকল করলেই ইন্দিরা গান্ধী হওয়া যায় না।
কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধীদের আরেকটি অভিযোগ, মোদী সরকারের জমানায় দেশ নাকি মারাত্মক অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইক-পরবর্তী ভারতে জাতীয়তাবোধের যে লহর বইছে সেটা নাকি ঠিক নয়। নেহরুর জাতীয়তাবাদই শ্রেষ্ঠ। কীরকম সেই জাতীয়তাবাদ? আনন্দবাজার পত্রিকায় এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অমিতাভ গুপ্ত। জাতি, ধর্ম, বর্ণ পরম্পরা-ভিত্তিক জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস ছিল না নেহরুর। তিনি বিশ্বাস করতেন দেশের প্রতিটি কোণ উন্নয়নের স্পর্শ পেলেই এক সূত্রে বাঁধা পড়বে দেশ। সেটাই জাতীয়তা। এমন একটি আজগুবি ধারণা নেহরুর মতো মানুষের পক্ষেই ভাবা সম্ভব। কারণ তিনি ছিলেন ব্রিটিশ শিক্ষাসচিব মেকলের কারখানায় তৈরি ভারতীয়। মেকলে চাইতেন, ভারতীয়রা শুধু জন্মসূত্রে ভারতীয় হোক। কিন্তু স্বভাবে, চিন্তাভাবনায় বিশ্বাসে হোক ব্রিটিশ। নেহরু ছিলেন তাই। নিজেকে শেষ ব্রিটিশ ভাইসরয় ভাবতে ভালোবাসতেন। সদ্য স্বাধীন একটি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর শিরোপা তাকে কোনওদিন প্রত্যাশিত আনন্দ দেয়নি। সুতরাং তার জাতীয়তাবাদ যে ঔপনিবেশিক জাতীয়তাবাদ হবে এবং সেখানে যে ধর্ম ও পরম্পরার কোনও জায়গা থাকবে না, সে কথা বলাই বাহুল্য।
ভারতবর্ষ অধ্যাত্মভাবনার দেশ। ধর্ম এখানে যন্ত্র নয়, জীবন্ত সংস্কৃতি। আপামরের সংস্কৃতি। জীবনযাপনের পথ। ধর্ম বাদ দিয়ে ভারতীয়ত্বের ভাবনা অসম্পূর্ণ। বিরোধীরা যাকে অসহিষ্ণুতা ভাবছেন সেটা আসলে প্রতিরোধ। ঔপনিবেশিকতা যাতে আর মাথা তুলতে না পারে তারই জন্য এই প্রতিরোধ। ভারতবর্ষ স্বাধীন এবং সার্বভৌম দেশ। ভারতের পরমুখাপেক্ষী হয়ে থাকার দিন শেষ হয়ে গেছে ২০১৪ সালে। বস্তুত, এই ভাবনারই প্রতিফলন আমরা দেখি নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে। তিনি বলতে পারেন, ‘ছেড়োগে তো হাম ছোড়েঙ্গে নহী।’ যার বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘আমাদের মারলে আমরাও মারব। ছাড়ব না।’ গত পাঁচ বছরে তিনি শুধু মানুষের প্রত্যাশা পূরণই করেননি, প্রতিটি ভারতীয়ের স্বকীয়তারও নির্মাণ করেছেন। ‘অচ্ছে দিন’ নিয়ে তরজায় মত্ত বিরোধীরা কথাটা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন ততই মঙ্গল।

চন্দ্রভানু ঘোষাল

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.