নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বহাল রাখল দেশের শীর্ষ আদালত। এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিনের আদেশে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্য সরকারকে নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য পুনর্নবীকরণসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে হাইকোর্টেই ফিরে যেতে বলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশানুসারে, উপনির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ২১ অক্টোবর মিলন প্রধানকে হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে পূর্ববর্তী রাজনৈতিক ঘটনাক্রমের মাঝে ২০০৭ সালের একটি পুরনো মামলায় মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ তোলা হয় যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই গ্রেফতারি চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে জামিন চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত ছ’টি মামলায় মিলন প্রধানকে তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে। হাইকোর্টের সেই জামিনের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য সরকার।
সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে রাজ্যের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেন যে, সাধারণ অভিযুক্তদের মতোই মিলন প্রধানের বিচার হওয়া উচিত এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে তিনি বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন না। তবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা মামলার গুণাগুণ (মেরিট) নিয়ে কোনো মন্তব্য করছে না। নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে মিলনের অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন জানালে রাজ্য সরকার তার বিরুদ্ধে আইনি মতামত উপস্থাপনের পূর্ণ সুযোগ পাবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম আসন থেকেও জয়লাভ করেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ত্যাগ করায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উক্ত আসনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র তরফে হাসিরানি রথকে প্রার্থী করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ৯ অক্টোবর (শুক্রবার) ফলাফল ঘোষিত হবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে কংগ্রেসের ‘নৈতিক জয়’ বলে উল্লেখ করেছেন দলের সিনিয়র নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগ করেও মিলন প্রধানের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা যায়নি। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে কংগ্রেস তাদের আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

