তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে এবার চাকরির নামে অর্থ প্রতারণা ও তোলাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠলো। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে গড়বেতা থানার পুলিশ। এর আগে জমি দুর্নীতি, বালি দুর্নীতি এবং সিম কার্ড প্রতারণাসহ একাধিক মামলায় একাধিকবার পুলিশি হেফাজতে গিয়েছিলেন সুমিত। সম্প্রতি মেদিনীপুর আদালত তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিলেও, নতুন মামলায় গড়বেতা পুলিশ তাঁকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ (Shown Arrest) করে পুনরায় নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বাঁকুড়ার বাসিন্দা নাদিয়া চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি গড়বেতা থানায় সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সুমিত অগ্রিম হিসেবে মাথাপিছু ৪৫ লক্ষ টাকা করে নিয়েছিলেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আরও দু’কোটি টাকা দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। শুধু অর্থ লেনদেনই নয়, চাকরিপ্রার্থীদের বিশ্বাস অর্জন করতে উলুবেড়িয়ার একটি হাসপাতাল থেকে ভুয়ো স্বাস্থ্যপরীক্ষাও করানো হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে।
এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং প্রতারণার সম্পূর্ণ সত্যতা উদঘাটন করতে সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে ১২ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়ে গড়বেতা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তদন্তকারী দল। বুধবার কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে সুমিতকে আদালতে পেশ করা হলে, বিচারক তাঁর ৭ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন। ফলে আগামী এক সপ্তাহ তাঁকে গড়বেতা থানার পুলিশি হেফাজতে থেকেই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে।
উল্লেখ্য, শালবনি থানা এলাকায় জমি দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার তদন্তে প্রথম সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে থাকার পর, এমনকি তদন্তের স্বার্থে শালবনি থানার পুলিশ কালীঘাটে অভিষেকের বাসভবনেও তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১০ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আইনি রক্ষাকবচ তুলে নিলে কালীঘাটের বাসভবন থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। নতুন এই চাকরির প্রতারণা মামলা সুমিতের আইনি জটিলতাকে আরও বৃদ্ধি করলো।

