দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ৭৬ রানে হারের পর ভারতীয় দলের রণকৌশল ও প্রথম একাদশ নির্বাচন নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দলের সহ-অধিনায়ক ও ছন্দে থাকা স্পিনার অক্ষর পটেলকে বসিয়ে ওয়াশিংটন সুন্দরকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে দলের কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের হয়ে সাফাই দিলেন ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক।
কেন প্রাধান্য পেলেন ওয়াশিংটন?
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে কোটাক জানান, কোনো ব্যক্তিগত কারণে নয়, বরং পিচের প্রকৃতি এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইন-আপ বিচার করেই ওয়াশিংটনকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন:
“গম্ভীর এবং সূর্য ম্যাচের আগেই অক্ষরের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সারির ব্যাটারদের মধ্যে তিনজন বাঁ-হাতি ছিলেন। তাই আমাদের মনে হয়েছিল দলে একজন অফ-স্পিনার থাকা কার্যকর হবে।”
পাশাপাশি তিনি জানান, পাওয়ার প্লে-তে ওয়াশিংটনকে দিয়ে বল করানোর পরিকল্পনা থাকলেও দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় সেই সময় তাঁর প্রয়োজন হয়নি।
অক্ষরের দক্ষতা ও দল নির্বাচন প্রক্রিয়া
অক্ষরকে বসানো নিয়ে যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সে বিষয়ে কোটাক স্পষ্ট করেছেন যে দল এখন ‘ম্যাচ ভিত্তিক’ সিলেকশন পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, “অক্ষর অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেটার এবং ওর দক্ষতা নিয়ে আমাদের কোনো সংশয় নেই। তবে মাঠ এবং প্রতিপক্ষের শক্তির ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত একাদশ ঠিক করা হয়।”
সঞ্জু স্যামসন ও ওপেনিং সমস্যা
বিশ্বকাপে ওপেনিং জুটির ব্যর্থতা সত্ত্বেও কেন সঞ্জু স্যামসনকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। এ প্রসঙ্গে ব্যাটিং কোচের ব্যাখ্যা:
- সঞ্জুর ফর্ম: গত কয়েক ম্যাচে সঞ্জু রান না পাওয়ায় তাঁর আত্মবিশ্বাস কিছুটা কম থাকতে পারে বলে মনে করছে ম্যানেজমেন্ট।
- ঈশানের ওপর ভরসা: ফর্মে থাকা ঈশান কিশনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে সঞ্জু যে দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাইরে নন, তাও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
কোটাক স্বীকার করে নেন যে ওপেনিং জুটি নিয়ে চিন্তা রয়েছে এবং প্রয়োজনে কার্যকর পরিবর্তন করা হতে পারে।
সুপার এইটে চাপ ও আগামীর লক্ষ্য
ঘরের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার নিশ্চিতভাবেই টিম ইন্ডিয়াকে চাপে ফেলে দিয়েছে। তবে চাপের কথা স্বীকার করেও সামনের দিকে তাকাতে চান কোটাক। তিনি বলেন, “ক্রিকেট এক বলের খেলা, বিশেষ করে ব্যাটারদের ওপর চাপ বেশি থাকে। কিন্তু এই পর্যায়ের ক্রিকেটে চাপ সহ্য করতেই হয়।”
পরবর্তী লক্ষ্য: সুপার এইটে টিকে থাকতে গেলে ভারতের সামনে এখন মরণ-বাঁচন পরিস্থিতি। কোটাকের কথায়, “আমাদের হাতে আরও দুটো ম্যাচ রয়েছে। জয়ের কোনো বিকল্প নেই। সাধারণ লক্ষ্য নিয়েই আমরা বৃহস্পতিবার মাঠে নামব।”

