কেকেআর মেন্টর ব্র্যাভোর মন্ত্রণায় বদলে যাওয়া এনগিডি; ভারতের বিরুদ্ধে সাফল্যের চাবিকাঠি আইপিএল

কেকেআর মেন্টর ব্র্যাভোর মন্ত্রণায় বদলে যাওয়া এনগিডি; ভারতের বিরুদ্ধে সাফল্যের চাবিকাঠি আইপিএল

এক সময় তাঁকে শুধুমাত্র লাল বলের ক্রিকেটের বিশেষজ্ঞ বলে মনে করা হতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সাদা বলের ক্রিকেটেও নিজেকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছেন লুঙ্গি এনগিডি। রবিবার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে সূর্যকুমার যাদবদের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছেন এই প্রোটিয়া পেসার। উইকেট না পেলেও তাঁর ২৪টি বলের মধ্যে ১০টিই ছিল ডট বল। নিজের এই অবিশ্বাস্য রূপান্তরের জন্য আইপিএল এবং বর্তমানে কেকেআর-এর মেন্টর ডোয়েন ব্র্যাভোকে কৃতিত্ব দিলেন এনগিডি।


ব্র্যাভোর পাঠশালা ও আইপিএল অভিজ্ঞতা

ম্যাচ শেষে এনগিডি জানান, বোলার হিসেবে তাঁর এই উন্নতির ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০১৮ সালের আইপিএলে। সেই সময় তিনি চেন্নাই সুপার কিংসে ব্র্যাভোর সতীর্থ ছিলেন। এনগিডির কথায়:

“সেবার খেলার সুযোগ কম পেলেও অনুশীলনে ব্র্যাভোর সঙ্গে প্রচুর সময় কাটিয়েছিলাম। মন্থর গতির ইয়র্কার, স্লোয়ার বাউন্সার এবং একই ডেলিভারিকে কীভাবে তিনটি ভিন্ন লেন্থে করা যায়, তা আমি ব্র্যাভোর কাছেই শিখেছি।”

তিনি আরও জানান, ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করার কৌশল এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে গতির পরিবর্তন করার যে পাঠ তিনি পেয়েছিলেন, তা দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে গিয়ে আরও নিখুঁত করেছেন।


প্রচারের আড়ালে থেকে মরণকামড়

বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যান্য তারকা পেসারদের মতো এনগিডিকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় না। তবে এই ‘প্রচারবিমুখ’ থাকাকেই নিজের শক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। এনগিডি মনে করেন, লাইমলাইটে কম থাকার কারণে ব্যাটাররা তাঁর বৈচিত্র্যগুলো সহজে ধরতে পারেন না।

ভারতের বিরুদ্ধে বিশেষ রণকৌশল:

  • লেগ কাটারের ব্যবহার: এনগিডি জানতেন ভারতীয় ব্যাটাররা তাঁর ‘অফ কাটার’ সামলানোর প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন। তাই তিনি কৌশলে বারবার লেগ কাটার ব্যবহার করেছেন।
  • সূর্যকুমারকে আটকানোর ছক: সূর্যকুমার যাদব যখন লেগ সাইডে বড় শট খেলার চেষ্টা করছিলেন, তখন এনগিডি বারবার তাঁর পরিকল্পনা পরিবর্তন করে সূর্যকে চাপে ফেলেন।

লক্ষ্য উইকেট নয়, ব্যাটারকে চাপে ফেলা

অনেকে উইকেট সংখ্যা দিয়ে বোলারের বিচার করলেও এনগিডি বিশ্বাস করেন ডট বল করে ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করায়। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটাররা সবসময় আগ্রাসী মেজাজে থাকেন, আর সেই সুযোগটাই তিনি নিতে চান।

“আমি স্কোরবোর্ডের দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম ওরা কতটা চাপে আছে। আমার লক্ষ্য ছিল ডট বল দিয়ে ওদের উইকেট দিতে বাধ্য করা। উইকেট আমি পেলাম না অন্য কেউ, তাতে কিছু যায় আসে না। পরিকল্পনা কাজ করেছে এটাই বড় কথা।”

প্রোটিয়া এই পেসারের মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যত বেশি মন্থর গতির বল করা যাবে, ব্যাটারদের ভুল করার সম্ভাবনা তত বাড়বে। রবিবারের ম্যাচে সেই রণকৌশলেই কুপোকাত হয়েছে ভারতীয় টপ অর্ডার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.