ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট’ (AMCA) নির্মাণের প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই মেগা প্রকল্পের জন্য সরকারি-বেসরকারি সহযোগী সংস্থা বা পার্টনার বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারি সূত্রের খবর, প্রাথমিক তালিকায় থাকা সাতটি সংস্থার মধ্য থেকে স্ক্রিনিংয়ের পর চূড়ান্ত যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনটি সংস্থাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
১৫ হাজার কোটির মেগা প্রকল্প: তিন দরপত্রদাতাকে ‘আরএফপি’ প্রদান
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বুধবার ১৫,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি পঞ্চম প্রজন্মের এএমসিএ (AMCA) যুদ্ধবিমান নির্মাণের জন্য বাছাইকৃত তিন দরপত্রদাতার উদ্দেশে ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজ়াল’ (RFP) বা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবপত্র চাওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া শীর্ষস্থানীয় সংস্থা ও কনসোর্টিয়ামগুলি হলো:
- টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (TASL)
- লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T) এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) — যৌথ কনসোর্টিয়াম।
- ভারত ফোর্জ লিমিটেড এবং বিইএমএল (BEML) — যৌথ কনসোর্টিয়াম।
বাদ পড়ল ‘হ্যাল’ ও ‘আদানি ডিফেন্স’
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই চূড়ান্ত বাছাই তালিকায় একটি বড় চমক লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের এই মেগা প্রকল্প থেকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাদ পড়েছে দেশের প্রথম সারির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড’ (HAL)। এর পাশাপাশি চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই পায়নি শিল্পপতি গৌতম আদানির অধীনস্থ বেসরকারি সংস্থা ‘আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস’।
চূড়ান্ত বরাৎপ্রাপ্ত সংস্থাটি ‘ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা’ (DRDO)-র সহযোগী বা কো-ডেভেলপার হিসেবে কাজ করবে। উল্লেখ্য, ডিআরডিও-র অধীনস্থ সংস্থা ‘অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি’ (ADA)-কে ইতিমধ্যেই দেশীয় প্রযুক্তির এই প্রথম স্টেলথ যুদ্ধবিমানের নকশা বা ডিজাইন তৈরির মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন ও অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র প্রযুক্তি
এএমসিএ (AMCA) প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরে এই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি স্টেলথ যুদ্ধবিমানে আমেরিকার তৈরি ৯০ কিলোনিউটন (kN) শ্রেণির ‘জিই-৪১৪’ (GE-414) ইঞ্জিন ব্যবহার করা হতে পারে। তবে উৎপাদন শুরুর এক দশক পর, এই বিমানের নতুন সংস্করণের বাণিজ্যিক উৎপাদন (Commercial Production) যখন শুরু হবে, তখন ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারতে তৈরি ১২০ কিলোনিউটন শ্রেণির ‘সাফরাঁ’ (Safran) ইঞ্জিন প্রতিস্থাপন করা হতে পারে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
AMCA-এর যুদ্ধক্ষমতা ও রণকৌশল: শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নজর এড়াতে এই বিমানে থাকবে অত্যন্ত অত্যাধুনিক রাডার ও সেন্সর প্রযুক্তি। এ ছাড়া এটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার ‘অ্যাস্ট্রা’ এয়ার-টু-এয়ার (আকাশ থেকে আকাশ) ক্ষেপণাস্ত্র, এয়ার-টু-সারফেস (আকাশ থেকে ভূমি) ক্ষেপণাস্ত্র এবং লেজার-নিয়ন্ত্রিত গাইডেড বোমায় সুসজ্জিত থাকবে।
বর্তমানে শত্রুপক্ষের রেডার ও নজরদারি ফাঁকি দিতে সক্ষম এই বিশেষ ‘স্টেলথ্’ (Stealth) প্রযুক্তিসম্পন্ন যুদ্ধবিমান একমাত্র আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিন— এই তিন পরাশক্তির হাতেই রয়েছে। এই প্রকল্প সফল হলে বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে নিজস্ব প্রযুক্তিতে স্টেলথ ফাইটার জেট তৈরির এলিট ক্লাবে প্রবেশ করবে ভারত।

