চলতি এপ্রিল মাসে দেশের পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চললেও, রাজনৈতিক মহলের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও অসম। নির্বাচনের প্রাক্কালে ‘ম্যাট্রিজ’ (Matrize)-এর সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষা বাংলায় এক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে ভোটের ব্যবধান অত্যন্ত সংকীর্ণ হতে চলেছে।
ভোট শতাংশ ও আসন সংখ্যার পূর্বাভাস
ম্যাট্রিজ-এর জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, ২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কোনো পক্ষই অনায়াস জয়ের জায়গায় নেই। সমীক্ষার পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো:
| রাজনৈতিক দল/জোট | প্রত্যাশিত ভোট শতাংশ | প্রত্যাশিত আসন সংখ্যা |
| তৃণমূল কংগ্রেস | ৪৩% | ১৪০ – ১৬০ |
| বিজেপি | ৪১% | ১৩০ – ১৫০ |
| অন্যান্য (বাম-কংগ্রেস ও বাকিরা) | ১৬% | ০৮ – ১৬ |
উল্লেখ্য, বাংলায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার হলো ১৪৮। সমীক্ষার নিম্নসীমা অনুযায়ী তৃণমূল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে, আবার ঊর্ধ্বসীমা অনুযায়ী তারা পুনরায় ক্ষমতা দখল করতে পারে। অর্থাৎ, লড়াই হবে সেয়ানে-সেয়ানে।
হুমায়ুন কবীর ও ওয়েইসি ফ্যাক্টর: দুশ্চিন্তায় ঘাসফুল শিবির?
এবারের নির্বাচনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূলত্যাগী নেতা হুমায়ুন কবীর। তিনি নিজের দল ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম (AIMIM)-এর সঙ্গে জোট বেঁধেছেন।
- চ্যালেঞ্জ: এই জোট মূলত মুসলিম অধ্যুষিত আসনগুলিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
- বিজেপির সুবিধা: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হলে অনেক আসনেই বিজেপি প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসতে পারেন।
- সম্ভাবনা: তবে সমীক্ষায় এটিও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ভোটের ফল প্রকাশের পর আমজনতা উন্নয়ন পার্টি পুনরায় তৃণমূলের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গঠন সহজ করে দিতে পারে।
২০২১ বনাম ২০২৬: পরিবর্তনের ইঙ্গিত
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ২১৫টি আসনে বিশাল জয় হাসিল করেছিল। তবে এবারের সমীক্ষা বলছে, শাসকদলের ভোট প্রাপ্তির হার ৪৮% থেকে কমে ৪৩%-এ নামতে পারে।
অন্যদিকে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ম্যাট্রিজ-আইএএনএস (Matrize-IANS)-এর সমীক্ষাতেও তৃণমূলের ভোট প্রাপ্তি ৪৩-৪৫ শতাংশ এবং বিজেপির ৪১-৪৩ শতাংশ থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। দুই সমীক্ষাতেই বাম-কংগ্রেস জোটের ভোট শতাংশ ১৩-১৫ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে।
নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন দীর্ঘ সময় ধরে ভোট প্রক্রিয়া পরিচালনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার মধ্যে এই জনমত সমীক্ষা রাজনৈতিক দলগুলোর রক্তচাপ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

