দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অনুন্নয়ন আর প্রশাসনিক উদাসীনতায় বীতশ্রদ্ধ গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের (২৩৩) সাধারণ মানুষ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক চাহিদাগুলি পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এলাকার বাসিন্দারা এখন নতুন রাজনৈতিক দিশার সন্ধানে। এই আবহে পরিবর্তনের হাওয়াকে ত্বরান্বিত করতে ব্যাপক প্রচার ও জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু করলেন ওই কেন্দ্রের প্রার্থী প্রদীপ লোধা।
বিস্তৃত অঞ্চলে ম্যারাথন জনসংযোগ
মঙ্গলবার প্রদীপ লোধা গড়বেতার একাধিক স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে নিবিড় প্রচার চালান। এদিন তাঁর প্রচারসূচিতে ছিল:
- আগরো, রঘুনাথপুর ও নোহারী।
- পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা।
- শালডাংরা, খড়খড়ি এবং শরবনী ৬ নম্বর অঞ্চল।
প্রচার চলাকালীন তিনি প্রতিটি পাড়ায় ঘুরে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হন এবং তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা মন দিয়ে শোনেন। গ্রামবাংলার মেঠো পথ থেকে হাট-বাজার— সর্বত্রই প্রার্থীর উপস্থিতিতে মানুষের ক্ষোভ ও আশার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা গেছে।
মৌলিক অধিকার ও কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার
জনসংযোগ কর্মসূচির ফাঁকে প্রদীপ লোধা তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্যের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান:
“আমাদের লড়াই মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লড়াই। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং স্থানীয় যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিতে আসিনি, বাস্তবের প্রতিফলন ঘটাতে চাই।”
জনসাধারণের মনোভাব: ‘বাঁচতে চাই, তাই পরিবর্তন চাই’
গড়বেতার অলিগলিতে এখন পরিবর্তনের দাবি জোরালো হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের মতে, উন্নয়নের বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার সুফল পৌঁছায়নি সাধারণ মানুষের কাছে। আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এবার আর তাঁরা ‘নীরব দর্শক’ থাকতে রাজি নন।
বর্তমানে গড়বেতার প্রতিটি ঘরে ও জনপদে একটি স্লোগানই প্রধান হয়ে উঠেছে— “বাঁচতে চাই, তাই পরিবর্তন চাই।” সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং দৃঢ় অবস্থান বিরোধীদের পালে হাওয়া দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গড়বেতা কেন্দ্রে যেভাবে জনমানসে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে এবং পরিবর্তনের পক্ষে স্লোগান উঠছে, তা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। প্রদীপ লোধার এই নিবিড় জনসংযোগ কর্মসূচি শাসক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।
গড়বেতার এই ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়, এখন সেটাই দেখার।

