পশ্চিম এশিয়া সংকট: হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা

পশ্চিম এশিয়া সংকট: হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা

ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সামরিক সংঘাত ২০তম দিনে পদার্পণ করায় পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের অবরোধের জেরে ভারতের তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল একটি আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক বৈঠকে জানান যে, ভারত বর্তমানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রক্ষা করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নয়াদিল্লির তৎপরতা এখন তুঙ্গে।

কূটনৈতিক সাফল্যের নজির: মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভারতের সফল কূটনৈতিক আলোচনার ফলেই সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী দিয়ে দুটি এলপিজি-বাহী জাহাজ নিরাপদে পার করা সম্ভব হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলার পর ভারত জানিয়েছিল যে দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প পথের সন্ধান ও আলোচনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী মোদীর টেলিফোনিক কূটনীতি

পশ্চিম এশিয়ার সংকটজনক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি কুয়েতের যুবরাজের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি নিম্নলিখিত রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গেও টেলিফোনে আলোচনা করেছেন:

  • ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ
  • মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম
  • ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক

প্রবাসী ভারতীয়দের সুরক্ষা ও অগ্রাধিকার

জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক ও প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে নয়াদিল্লি। রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং বিদেশের মাটিতে ভারতীয়দের স্বার্থ রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের খনিজ তেল পরিবাহিত হয়। এই পথে সামরিক অস্থিরতা বজায় থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি ভারতের আমদানিতেও জটিলতা বাড়তে পারে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ভারত ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতির পাশাপাশি সক্রিয় আলোচনার পথে হাঁটছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.