পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই বড় ঘোষণা করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের অভাব মেটাতে বরাদ্দ আরও ২০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সচিব নীরজ মিত্তল দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের চিঠি পাঠিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
বরাদ্দ বৃদ্ধির রূপরেখা
চিঠিতে জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার (২৩ মার্চ) থেকে এই বর্ধিত বরাদ্দ কার্যকর হবে। এর ফলে বাণিজ্যিক গ্যাসের মোট সরবরাহ ‘প্রাক-সঙ্কট’ পর্যায়ের (হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার আগের সময়কাল) ৫০ শতাংশে পৌঁছাবে। উল্লেখ্য, গৃহস্থালি, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পর এবার বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও স্বস্তি দেওয়ার পথে হাঁটল কেন্দ্র।
অগ্রাধিকার পাবে যে সমস্ত ক্ষেত্র
অতিরিক্ত ২০ শতাংশ গ্যাস বণ্টনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রক। সচিবের চিঠিতে উল্লিখিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলি হলো:
- খাদ্য পরিষেবা: রেস্তরাঁ, হোটেল, ধাবা এবং ক্যান্টিন।
- শিল্প ও প্রক্রিয়াকরণ: খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট এবং ডেয়ারি (দুগ্ধশিল্প)।
- জনকল্যাণমূলক প্রকল্প: রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসন পরিচালিত ভর্তুকিযুক্ত ক্যান্টিন, কমিউনিটি কিচেন।
- পরিযায়ী শ্রমিক: শ্রমিকদের সুবিধার্থে ৫ কেজির এফটিএল (ফ্রি ট্রেড এলপিজি) সিলিন্ডার।
সচিব কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই অগ্রাধিকারের তালিকায় যেন কোনোভাবেই বিচ্যুতি না ঘটে।
বণ্টনের প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক সূত্রে খবর, ডিলাররা গত সপ্তাহের শুরুতে হোটেল-রেস্তরাঁ ও অন্যান্য জরুরি প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা তেল সংস্থাগুলির কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেই তালিকার গুরুত্ব বিচার করেই এই নতুন নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে।
তবে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও, বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক বা ১০০ শতাংশে ফিরবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি মন্ত্রকের আধিকারিকরা। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

