পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এক অভূতপূর্ব মোড় নিয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ বা ‘অ্যাডজুডিকেশন’ পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (CEO) দফতর সূত্রে খবর, শুক্রবার পর্যন্ত এর মধ্যে প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে আসা বিচারকেরা বর্তমানে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করছেন।
ভোটার তালিকা থেকে বাদ ৬৩ লক্ষ নাম
এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ার কারণ হিসেবে কমিশন জানিয়েছে:
- সংশ্লিষ্ট ভোটারদের মৃত্যু।
- স্থায়ীভাবে অন্য জায়গায় স্থানান্তর।
- দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি।
- একাধিক জায়গায় নাম থাকা।
এর বাইরেও আরও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম নিয়ে ধন্দ থাকায় সেগুলিকে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছে। এই ভোটারদের নথিগুলি খতিয়ে দেখার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনে বিশেষ বিচারক নিয়োগ করা হয়েছে।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান: নজরে মালদহ ও মুর্শিদাবাদ
প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা সবথেকে বেশি মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ জেলায়।
- মালদহ জেলা: বর্তমানে প্রকাশিত তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ২০৩। তবে চমকপ্রদভাবে এই জেলায় এখনও ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন ভোটার বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছেন।
- মুর্শিদাবাদ: মালদহের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলাতেও এই ধরনের ভোটারের সংখ্যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিচারকদের স্বাধীনতা ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হবে। এই ট্রাইব্যুনালে থাকবেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ও বিচারকেরা।
উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্ট এই কাজের জন্য যে বিচারকদের নিয়োগ করেছে, তাঁদের কাজে হস্তক্ষেপ না করার জন্য কমিশনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। বিচার প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
পরবর্তী পদক্ষেপ: অতিরিক্ত তালিকা
এই ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের পর খুব শীঘ্রই একটি ‘অতিরিক্ত ভোটার তালিকা’ বা ‘সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট’ প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিচারকদের রিপোর্ট হাতে আসার পরেই কমিশন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

