লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর লাল বাঁধনি পাগড়ি: রাজস্থান ও গুজরাতের হস্তশিল্পের প্রতি শ্রদ্ধা ও ঐক্যের বিশেষ বার্তা

লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর লাল বাঁধনি পাগড়ি: রাজস্থান ও গুজরাতের হস্তশিল্পের প্রতি শ্রদ্ধা ও ঐক্যের বিশেষ বার্তা

পোশাকে ব্যক্তিত্বের ছাপ এবং নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক বার্তার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সর্বদাই চর্চায় থাকেন। বিশেষ কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠানে তাঁর পরিধানের বিশেষত্ব বারবার দেশবাসীর নজর কাড়ে। প্রতি বছরের ন্যায় দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসেও লালকেল্লা থেকে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর শিরোসজ্জা এবং পোশাকের বিশেষত্ব ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। এ বছর তিনি পরিধান করেছিলেন ঐতিহ্যবাহী লাল ও মেরুন রঙের ‘বাঁধনি’ নকশার পাগড়ি, যা রাজস্থান ও গুজরাতের গ্রামীণ হস্তশিল্পের ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর পোশাকের বিবরণ

শনিবার সকালে লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদীর পরনে ছিল দুধসাদা কুর্তা-পায়জামা এবং তার ওপর একটি বাদামি রঙের হাতকাটা জ্যাকেট। জ্যাকেটের বুকে শোভা পাচ্ছিল তেরঙা জাতীয় পতাকার আদলে পকেট স্কয়ার।

তবে সামগ্রিক সাজের মূল আকর্ষণ ছিল তাঁর রাজস্থানি ও গুজরাতি ধাঁচের লাল ও মেরুন রঙের বাঁধনি পাগড়িটি, যার ওপর ফুটে উঠেছিল সাদা, হলুদ ও সবুজ রঙের ক্ষুদ্র বিন্দু বিন্দু জ্যামিতিক নকশা।

‘বাঁধনি’ শিল্প ও তার নেপথ্যের বার্তা

‘বাঁধনি’ শব্দটি সংস্কৃত শব্দ ‘বান্ধি’ থেকে এসেছে, যার আক্ষরিক অর্থ ‘বাঁধা’ বা ‘একত্রিত করা’। রাজস্থান ও গুজরাতের এটি একটি প্রাচীন ও বিখ্যাত বস্ত্রশিল্প পদ্ধতি।

  • টাই-অ্যান্ড-ডাই পদ্ধতি: সুতি বা রেশমি কাপড় রঞ্জিত করার আগে কারিগরেরা কাপড়ের ছোট ছোট অংশ সুতো দিয়ে শক্ত করে বেঁধে নেন। এরপর বিভিন্ন রঙের রঞ্জকে ডুবিয়ে সুতো কেটে ফেললে সেখানে সাদা, হলুদ বা অন্যান্য রঙের নজরকাড়া জ্যামিতিক বিন্দু ফুটে ওঠে।
  • ঐতিহ্যের বার্তা: প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই পোশাকের মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ তাঁতি ও হস্তশিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। একই সঙ্গে ভারতের ঐতিহ্যবাহী সুতি ও রেশম হস্তশিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার বার্তাও স্পষ্ট।

২০১৪ থেকে অব্যাহত পাগড়ির ঐতিহ্য

২০১৪ সালে প্রথম বার লালকেল্লায় ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী একটি লাল ও সোনালি রঙের বিন্দু নকশার পাগড়ি পরেছিলেন। ২০১৫ সালে তাতে আসে হলুদ ও গেরুয়া ধাঁচের ডোরাকাটা রূপান্তর। গত কয়েক বছরে প্রতিবারই লালকেল্লায় তাঁর পাগড়ির রঙ ও নকশায় ভিন্ন ভিন্ন বার্তা ফুটে উঠেছে। এ বারের বাঁধনি কাপড়ের পাগড়িও সেই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় সাংস্কৃতিক বিচিত্রতা ও গ্রামীণ শিল্পের ঐতিহ্যের বার্তা বহন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.