পাকিস্তান-বিরোধী জঙ্গিগোষ্ঠী ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (TTP)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কর্নাটকের বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করা হয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা আসাফুল মালিক (২৩)। ১৫ আগস্ট, স্বাধীনতা দিবসে বোম্মাসান্দ্রা শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন এপিসি সার্কেল এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করে কর্নাটক পুলিশ। অভিযুক্ত যুবক আফগানিস্তান যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে পুলিশি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
বাদুড়িয়া থানার যদুরহাটি পঞ্চায়েতের নোয়াপাড়ার এক নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান আসাফুলের এই গ্রেফতারির খবরে হতবাক তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীরা।
তদন্তকারীদের দাবি ও উদ্ধারকৃত তথ্য
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেঙ্গালুরুতে টহলদারির সময় গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে আসাফুলকে আটক করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত যুবক জেরায় স্বীকার করেছেন যে অনলাইনে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি জঙ্গি কার্যকলাপে উদ্বুদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে টিটিপি-র সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন।
বর্তমানে আসাফুলের পাসপোর্ট ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর অ্যাকাউন্টে বিদেশ থেকে অর্থ লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে অভিযুক্তকে তাঁর বাবার মুখোমুখি বসিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
চাকরির চেষ্টা থেকে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ
পরিবার সূত্রে খবর, গোবরডাঙা হিন্দু কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর আসাফুল পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস (WBCSS) ও পুলিশসহ একাধিক সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে সংসারের অভাব-অনটনের কারণে দেড় বছর আগে বেঙ্গালুরু পাড়ি দেন এবং সেখানে একটি বেসরকারি সংস্থায় নিরাপত্তারক্ষীর কাজ শুরু করেন। কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
নিরাপত্তারক্ষীর আড়ালে জঙ্গি যোগাযোগের খবরে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা হাসিনা বিবি। ছেলের পড়াশোনার বইপত্র দেখিয়ে তিনি বলেন, “আমার ছেলে দিনরাত পড়াশোনা নিয়ে থাকত। চাকরির অনেক চেষ্টা করেও না পেয়ে সংসারের টানে বাইরে কাজে যায়। ও এমন কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, আমি বিশ্বাস করি না।”
এলাকায় চাঞ্চল্য ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
আসাফুলের বিরুদ্ধে ওঠায় অভিযোগে এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিবেশীদের কাছে তিনি একজন শান্ত ও মেধাবী যুবক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। ঘটনার খবর পাওয়ার পরই তাঁর বাবা বেঙ্গালুরুর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
কয়েক বছর আগে এই জেলারই তানিয়া খাতুন নামে এক তরুণী জঙ্গি যোগের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে এখনও জেলবন্দি। সেই ঘটনার সঙ্গে আসাফুলের মামলার সামঞ্জস্য তুলে ধরে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। যুবক সত্যিই অপরাধের সাথে যুক্ত নাকি অন্য কোনো চক্রান্তের শিকার, তা নিয়ে ধন্দে স্থানীয় বাসিন্দারা।

