প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া আবহাওয়া আর ক্রমবর্ধমান দূষণের জেরে শরীরে বাসা বাঁধছে নিত্যনতুন রোগব্যাধি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, কেবল শৈশবের টিকাকরণই সারা জীবনের জন্য যথেষ্ট নয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, প্রতিষেধকের কার্যকারিতা একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর কমতে শুরু করে। বর্তমানের সংক্রামক ব্যাধির বাড়বাড়ন্ত রুখতে প্রাপ্তবয়স্কদেরও নির্দিষ্ট কিছু টিকা বা বুস্টার ডোজ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সুস্থ থাকতে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিদের জন্য ৫টি অতি প্রয়োজনীয় প্রতিষেধকের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. টিড্যাপ (Tdap) প্রতিষেধক
টিটেনাস, ডিপথেরিয়া এবং পারটুসিস বা হুপিং কাশির মতো মারাত্মক সংক্রমণ ঠেকাতে টিড্যাপ টিকার কোনো বিকল্প নেই। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগগুলোর বিরুদ্ধে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে প্রতি ১০ বছর অন্তর টিড্যাপ টিকা এবং এর বুস্টার ডোজ নেওয়া প্রয়োজন।
২. এইচপিভি (HPV) টিকা
হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে এইচপিভি টিকা অত্যন্ত কার্যকর। এই প্রতিষেধক শুধুমাত্র জরায়ুমুখের ক্যানসার নয়, আরও বেশ কিছু ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধে সক্ষম। ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সের মধ্যে নারী ও পুরুষ— উভয়েরই এই টিকা নিয়ে রাখা উচিত।
৩. হেপাটাইটিস-বি
লিভারের ক্যানসার এবং লিভার সিরোসিসের মতো প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার হলো হেপাটাইটিস-বি প্রতিষেধক। শৈশবে এই টিকা নেওয়া থাকলেও ১৮ বছরের পর পুনরায় ডোজ নেওয়া প্রয়োজন। সাধারণত এক মাস অন্তর এই টিকার তিনটি ডোজ নিতে হয়। আগে নেওয়া থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে বুস্টার ডোজ নেওয়া জরুরি।
৪. নিউমোকক্কাল টিকা
নিউমোনিয়া এবং মেনিনজাইটিসের হাত থেকে সুরক্ষা পেতে এই টিকা কাজ করে। সাধারণত ৬৫ বছর বয়সের পর এই টিকা নেওয়া আবশ্যক। তবে যাদের ফুসফুসের সমস্যা, হাঁপানি, সিওপিডি (COPD) অথবা ডায়াবিটিস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর বয়সের পরেই চিকিৎসকের পরামর্শে এই টিকা নেওয়া উচিত।
৫. টাইফয়েড প্রতিষেধক
বর্তমান সময়ে টাইফয়েডের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। জল ও খাবারবাহিত এই রোগের হাত থেকে বাঁচতে ১৮ বছরের পর টাইফয়েডের টিকা নেওয়া খুবই জরুরি। বিশেষ করে যারা পেশার প্রয়োজনে বা শখে ঘন ঘন ভ্রমণ করেন, তাঁদের জন্য এই প্রতিষেধক নেওয়া বাধ্যতামূলক।
সতর্কবার্তা: যে কোনো প্রতিষেধক বা টিকা নেওয়ার আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং আপনার শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ডোজ নিশ্চিত করুন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি মজবুত রাখাই বর্তমান সময়ে সুস্থ থাকার প্রধান চাবিকাঠি।

