তামিলনাড়ুর বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: মৃত বেড়ে ২২, শোকস্তব্ধ প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি

তামিলনাড়ুর বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: মৃত বেড়ে ২২, শোকস্তব্ধ প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি

তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলার কাট্টানারাপট্টি গ্রামে একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার ছুটির দিনে নিয়ম ভেঙে কারখানা চালু রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানাটির ছাদ উড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শ্রমিকদের দেহাংশ ছড়িয়ে পড়ে।

উদ্ধারকাজ ও বর্তমান পরিস্থিতি

বিস্ফোরণের পর এলাকায় ঘন ধোঁয়ার চাদর ঢেকে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২২ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত ৬ জনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া, দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য চারটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া

এই বিয়োগান্তক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন তাঁরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্ত রকম সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উদ্ধারকাজ তদারকি করতে রাজ্যের মন্ত্রী কেকেএসএসআর রামচন্দ্রন ও থাঙ্গাম থেন্নারাসুকে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিরুধুনগরে দুর্ঘটনার ইতিহাস

উল্লেখ্য, আতশবাজি তৈরির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বিরুধুনগরে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ নতুন নয়। গত কয়েক বছরে এই জেলায় একাধিক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে:

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬: সাত্তুরের কাছে মাদাতুপাত্তিতে ‘এক্সেল’ বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: বিরুধুনগরের বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ১০ জনের মৃত্যু।
  • ২৯ জুন, ২০২৪: অন্য একটি ঘটনায় ৪ জনের প্রাণহানি।

সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ছুটির দিনে কারখানা চালানোয় প্রশাসনের গাফিলতি ও নিরাপত্তার অভাব নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, লাগামহীন মুনাফার লোভে শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই অবৈধ কাজ দিনের পর দিন চলে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.