রবিবার ছুটির দিনে রাজ্যের দুই প্রান্ত থেকে এল ভয়াবহ দুঃসংবাদ। বালিতে গঙ্গায় স্নান করতে নেমে এবং নবদ্বীপে ভাগীরথী নদীতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হলো তিন কিশোর। পৃথক দুটি ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ডুবুরি দল তল্লাশি চালালেও এখনও পর্যন্ত কারও কোনো হদিশ মেলেনি।
লিলুয়ায় গঙ্গায় তলিয়ে নিখোঁজ ছাত্র
বালি বিধানসভার লিলুয়ার দাসপাড়ার বাসিন্দা দশম শ্রেণির ছাত্র হর্ষ চৌধুরী রবিবার সকালে বন্ধুর সঙ্গে বালির বারেন্দ্রপাড়া গঙ্গার ঘাটে স্নান করতে গিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্নান করার সময় হর্ষ জলের তোড়ে ভেসে যায়। তাকে বাঁচাতে বন্ধু হর্ষদীপ সিংহ জলে ঝাঁপ দিলেও ব্যর্থ হন। জানা গেছে, তাদের কেউই সাঁতার জানত না। স্থানীয়দের চিৎকারে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বালি থানার পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি চললেও এখনও পর্যন্ত ওই ছাত্রের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নবদ্বীপে ভাগীরথীতে তলিয়ে দুই কিশোর
অপরদিকে, নদিয়ার নবদ্বীপ ঘোষপাড়ার গঙ্গার ঘাটে ঘটে আরও এক মর্মান্তিক ঘটনা। কানাই নগর এলাকার বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী রাকেশ মণ্ডল ও সীমান্ত সরকার নামে দুই যুবক রবিবার দুপুরে স্কুটিতে করে স্নান করতে এসেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় কয়েকজন শিশু জানায়, নদীতে খেলার সময় তারা দুজনেই তলিয়ে যেতে থাকে। বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের বাঁশ দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি।
উদ্ধারকাজ ও পুলিশি তৎপরতা
ঘটনার খবর পেয়েই তড়িঘড়ি এলাকায় পৌঁছায় নবদ্বীপ থানার পুলিশ। ঘাট থেকে তাদের ব্যবহৃত স্কুটিটি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ডুবুরিরা নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
রবিবারের এই জোড়া ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সাঁতার না জানা সত্ত্বেও কেন তারা গভীর জলে নামল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। পুলিশ জানিয়েছে, তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

