সাফল্যের অষ্টম বর্ষে সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি: বর্ণাঢ্য সমাবর্তনে ডিগ্রি পেলেন ২২৫৬ জন শিক্ষার্থী

সাফল্যের অষ্টম বর্ষে সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি: বর্ণাঢ্য সমাবর্তনে ডিগ্রি পেলেন ২২৫৬ জন শিক্ষার্থী

শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং শ্রেষ্ঠত্বের আদর্শকে পাথেয় করে অষ্টম প্রতিষ্ঠা দিবস ও সমাবর্তন অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন করল কলকাতার ‘সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি’ (SNU)। দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮টি বিভাগের ২,২৫৬ জন ছাত্রছাত্রী এবং ৮ জন পিএইচডি স্কলারকে তাঁদের স্নাতক ও উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্ট সদস্য প্রয়াত পারুল রায়চৌধুরীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সঙ্গীত (Anthem), ‘বন্দে মাতরম’ গান এবং ‘মূর্ত মহেশ্বর স্তোত্র’ পাঠের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে।

ভবিষ্যতের লক্ষ্য: প্রযুক্তি ও মানবিকতার সমন্বয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সত্যম রায়চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান ও সৃজনশীলতার এক অনন্য কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের এমনভাবে তৈরি করা, যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবেও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠেন।”

সিস্টার নিবেদিতার শিক্ষাদর্শন স্মরণ করে তিনি আরও বলেন:

“শিক্ষা মানে কেবল তথ্য আহরণ নয়, বরং মানুষের ভেতরকার সুপ্ত শ্রেষ্ঠত্বকে জাগিয়ে তোলা। আমরা স্বামী বিবেকানন্দ ও সিস্টার নিবেদিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শক্তিশালী যুবসমাজ গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

তিনি স্নাতকদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দেন যেন তাঁরা চিন্তায় দৃঢ়, কাজে বিনয়ী এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকেন।

চার দশকের ঐতিহ্য ও আধুনিক পরিকাঠামো

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শঙ্কু বসু তাঁর ভাষণে ‘টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ’-এর চার দশকের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং দূরদৃষ্টির ওপর ভিত্তি করেই এই প্রতিষ্ঠান আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে।

এক নজরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিসংখ্যান: | বিবরণ | সংখ্যা/তথ্য | | :— | :— | | মোট শিক্ষার্থী | ১০,০০০+ | | শিক্ষক সংখ্যা | ৫৫০ জন | | গবেষক | ১৮০ জন | | অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রাম | ১৫৬টি | | স্কুল ও বিভাগ | ৭টি স্কুল ও ২৮টি বিভাগ | | সেন্টার অফ এক্সেলেন্স | ১০টি |

উপাচার্য বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর যুগের কথা উল্লেখ করে বলেন, “প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হবে, কিন্তু মানুষের চরিত্র, সততা এবং সৃজনশীলতা অপরিবর্তিত থাকে। আমরা ছাত্রছাত্রীদের কেবল চাকরির জন্য নয়, বরং জীবনের প্রতিটি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করি।”

অনুষ্ঠানের শেষে কৃতি ছাত্রছাত্রীদের হাতে মানপত্র তুলে দেওয়া হয়। উৎসবমুখর এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সফরের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.