আইপিএলের প্লে-অফের দৌড়ে নিজেদের আশা আরও জোরালো করল চেন্নাই সুপার কিংস (CSK)। মঙ্গলবার অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৮ উইকেটে পরাজিত করল রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের দল। ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক সঞ্জু স্যামসনের ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মই এদিন ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। এই জয়ের ফলে ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল সিএসকে।
সঞ্জু ম্যাজিক: লক্ষ্যভেদে অবিচল চেন্নাই
জয়ের জন্য ১৫৬ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা একেবারেই আশানুরূপ হয়নি চেন্নাইয়ের। দলীয় সংগ্রহে বড় রান যোগ হওয়ার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় (৬) এবং উর্ভিল পটেল (১৭)। মাত্র ২৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে যখন চেন্নাই কিছুটা চাপে, তখনই ক্রিজে আসেন সঞ্জু স্যামসন।
চার নম্বরে নামা কার্তিক শর্মাকে সঙ্গী করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন সঞ্জু। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে দিল্লির বোলাররা কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন। মাত্র ৫২ বলে ৮৭ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন সঞ্জু, যা সাজানো ছিল ৭টি চার এবং ৬টি ছক্কায়। লক্ষ্যমাত্রা কম থাকায় শতরান হাতছাড়া হলেও দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। অন্যদিকে, কার্তিক শর্মা ৩১ বলে ৪১ রান করে (৪টি চার ও ২টি ছক্কা) অপরাজিত থাকেন। তাঁদের অবিচ্ছিন্ন ১১৪ রানের জুটি ১৭.৩ ওভারেই চেন্নাইকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।
দিল্লির ব্যাটিং বিপর্যয় ও স্টাবস-রিজভির লড়াই
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর পটেল। তবে শুরু থেকেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিক দল। দুই ওপেনার পাথুম নিসঙ্ক (১৯) ও লোকেশ রাহুল (১২) ব্যর্থ হন। মিডল অর্ডারে নীতিশ রানা (১৫), করুণ নায়ার (১৩) এমনকি অধিনায়ক অক্ষর পটেলও (২) বড় রান করতে পারেননি। এক সময় ৬৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দিল্লি।
বিপর্যয়ের মুখে দলের হাল ধরেন ট্রিস্টান স্টাবস ও ইমপ্যাক্ট সাব সমীর রিজভি। ষষ্ঠ উইকেটে তাঁদের ৬৫ রানের মূল্যবান পার্টনারশিপ দিল্লিকে লড়াই করার পুঁজি এনে দেয়। স্টাবস ৩১ বলে ৩৮ রান করেন। রিজভি অপরাজিত থাকেন ২৪ বলে ৪০ রান করে (৪টি ছক্কা)। শেষ দিকে আশুতোষ শর্মার ৫ বলে ১৪ রানের ক্যামিও ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে দিল্লি।

