নবান্নে পালাবদলের পর এবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বলয়ে বড়সড় কোপ বসাল রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের জন্য বরাদ্দ ‘জেড প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তা এবং বিশেষ ‘পাইলট কার’-এর সুবিধা আর বহাল থাকছে না।
নবান্নের বৈঠকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
সোমবার নবান্নে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলাশাসক ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে ওই বৈঠকে রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া মনোভাব পোষণ করেন তিনি। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান:
- প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকলে কাউকে অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া হবে না।
- কেবলমাত্র ‘প্রভাব’ বা ‘মর্যাদা’ প্রদর্শনের জন্য সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করতে হবে।
এই বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিকেলের দিকে অভিষেকের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করা হয়।
এক দশকে প্রথম বড় রদবদল
গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘জেড প্লাস’ ক্যাটাগরির কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকতেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী:
- অতিরিক্ত বাহিনী প্রত্যাহার: তাঁর সুরক্ষায় মোতায়েন থাকা অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
- পাইলট কার বাতিল: এতদিন যাতায়াতের সময় যে বিশেষ পাইলট কারের সুবিধা তিনি পেতেন, তা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে।
- সাংসদ স্তরের নিরাপত্তা: এখন থেকে একজন সাধারণ সাংসদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইন অনুযায়ী যেটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী, অভিষেককে কেবল সেটুকুই দেওয়া হবে।
ক্যামাক স্ট্রিট ও শান্তিনিকেতনেও বদল
ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই ধাপে ধাপে অভিষেকের নিরাপত্তা কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
- ক্যামাক স্ট্রিট: অভিষেকের দফতরের সামনে থেকে দীর্ঘদিনের পুলিশ প্রহরা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- শান্তিনিকেতন (বাসভবন): তাঁর বাড়ির সামনে থেকে পুলিশের স্ক্যানার ও অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম ইতিমধ্যেই সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন।
মমতার বাড়ির নিরাপত্তাতেও কোপ
অভিষেকের পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবনের নিরাপত্তাতেও কাটছাঁট করা হয়েছে। পালাবদলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বাড়ির গলির মুখ থেকে ‘সিজার্স ব্যারিকেড’ সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার লালবাজারের পক্ষ থেকে তাঁর বাড়ির সামনের অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো।
প্রশাসনিক মহলের মতে, নতুন সরকার খরচ কমাতে এবং পুলিশের কর্মদক্ষতা বাড়াতে এই ‘নিরাপত্তা অডিট’ শুরু করেছে। আগামী দিনে আরও অনেক প্রাক্তন মন্ত্রী ও নেতার নিরাপত্তা বলয় পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

