রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ মনে করছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গাড়িটি ভিনরাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। এই মামলার তদন্তে বালি টোল প্লাজা থেকে প্রাপ্ত সূত্র এখন গোয়েন্দাদের কাছে তুরুপের তাস হয়ে উঠেছে।
ইউপিআই পেমেন্ট ও টোল প্লাজার সূত্র
তদন্তকারীদের দাবি, দুষ্কৃতীরা যখন ওই গাড়িতে করে আসছিল, তখন বালি টোল প্লাজায় অনলাইনে (UPI) টাকা মেটানো হয়। এই ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য থেকেই ঘাতক গাড়ির মালিকানা ও আরোহীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ হদিস পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই বালি টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরে অপরাধীদের মোবাইল লোকেশন ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)।
উত্তরপ্রদেশে পুলিশের বিশেষ দল
চন্দ্রনাথ খুনের রহস্যভেদে রাজ্য পুলিশের তরফে যে ‘সিট’ গঠন করা হয়েছে, তাতে রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগ (CID) এবং এসটিএফ (STF)-এর দুঁদে আধিকারিকরা রয়েছেন। সূত্রের খবর, এই দলের একটি প্রতিনিধি দল অভিযুক্তদের খোঁজে উত্তরপ্রদেশে হানা দিয়েছে। রাজ্যেও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড: তদন্তের গতিপ্রকৃতি
পুলিশি তদন্তে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে:
- পূর্বপরিকল্পিত ছক: মনে করা হচ্ছে, অন্তত দেড় থেকে দুই মাস আগে থেকেই চন্দ্রনাথকে খুনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর ব্যক্তিগত শত্রুতা বা সাম্প্রতিক কোনো বিরোধের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- ভুয়ো নম্বরপ্লেট: খুনে ব্যবহৃত যে গাড়িটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে, তাতে ভিনরাজ্যের নম্বর থাকলেও সেটি আসলে জাল। এমনকি পরবর্তীতে উদ্ধার হওয়া দুষ্কৃতীদের দুটি বাইকের নম্বরপ্লেটও ভুয়ো ছিল। তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের ওপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, চন্দ্রনাথের গাড়ির পথ আটকে একটি চারচাকার গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ে। সেই সুযোগে দুটি বাইকে আসা আততায়ীরা গাড়ির দু’পাশ থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথের। চালক গুরুতর আহত অবস্থায় এখনও চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। বিজেপি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তৃণমূল নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আদালতের নজরদারিতে সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি তুলেছে। রাজ্য পুলিশের সিট এখন দ্রুত অপরাধীদের ধরতে মরিয়া। নবান্ন সূত্রের খবর, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট মিলিয়ে খুনিদের শনাক্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

