আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল সে দেশের হাই কোর্ট। বর্তমানে তিনি এই মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন। চট্টগ্রামের নিম্ন আদালতে ইতিমধ্যে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ
রবিবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে চিন্ময়কৃষ্ণের জামিনের মামলার শুনানি হয়। আদালতে চিন্ময়কৃষ্ণের আইনজীবী অপূর্ব ভট্টাচার্য তাঁর মক্কেলের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে জামিনের সপক্ষে সওয়াল করেন। তবে আদালত জামিন মঞ্জুর করেনি।
আইনজীবী অপূর্ব ভট্টাচার্য জানান:
- নিম্ন আদালতে বর্তমানে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে, তাই হাই কোর্ট এখনই জামিন দিতে রাজি হয়নি।
- আইনজীবী হত্যা মামলায় জামিন না মিললেও, চিন্ময়কৃষ্ণের বিরুদ্ধে থাকা আরও চারটি মামলার জামিনের শুনানি সোমবার হওয়ার কথা রয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: রাষ্ট্রদ্রোহ থেকে আইনজীবী হত্যা
চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। ঘটনার পর্যায়ক্রম নিচে তুলে ধরা হলো:
| সময়কাল | ঘটনা |
| ২০২৪-এর শেষার্ধ | বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে চিন্ময়কৃষ্ণকে গ্রেফতার করা হয়। |
| ২০২৪ নভেম্বর | চট্টগ্রাম আদালতে তাঁর জামিনের শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতা ছড়ায়। |
| সাইফুল হত্যাকাণ্ড | ওই সহিংসতায় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে আদালত চত্বরে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। |
| আইনজীবী হত্যা মামলা | এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ চিন্ময়কৃষ্ণ-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারের আবেদন জানায় এবং আদালত তা মঞ্জুর করে। |
বর্তমান আইনি অবস্থান
উল্লেখ্য, এর আগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময়কৃষ্ণ দাস আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলাটি বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। চট্টগ্রামের নিম্ন আদালত এই মামলায় দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে।
চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে অসন্তোষ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা মাথায় রেখে আদালত চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে। আগামীকালের শুনানিগুলিতে বাকি চারটি মামলায় তিনি স্বস্তি পান কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।

