মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের ধাক্কায় কার্যত বিপর্যস্ত পাকিস্তান। তেলের ব্যবহার কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করতে সোমবার দেশজুড়ে স্কুল বন্ধ ও সরকারি দফতরে কাজের দিন কমানোর মতো জরুরি পদক্ষেপের ঘোষণা দিল প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের প্রশাসন।
বিশ্ববাজারের প্রভাব ও পাকিস্তানের পদক্ষেপ
হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে তেহরানের বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পাকিস্তানের অর্থনীতির ওপর প্রবল চাপ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসলামাবাদ নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলি নিয়েছে:
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: আগামী ১৫ দিন দেশের সমস্ত স্কুল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। তবে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সশরীরে ক্লাস বন্ধ থাকলেও অনলাইন পঠনপাঠন চালু থাকবে।
- সরকারি দফতর: সরকারি দফতরগুলি সপ্তাহে মাত্র চার দিন খোলা থাকবে। বাকি দিনগুলিতে জ্বালানি সাশ্রয় করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- ওয়ার্ক ফ্রম হোম: দফতর খোলা থাকলেও প্রতিদিন ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ (Work From Home) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ব্যাঙ্কিং পরিষেবা: সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সরকারি ব্যাঙ্কগুলি আগের মতোই সপ্তাহে ছ’দিন খোলা থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী দফতর থেকে জানানো হয়েছে।
সংকটের নেপথ্যে ভূ-রাজনীতি
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার জেরে পশ্চিম এশিয়ায় যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার ফলেই এই সরবরাহ সংকট। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত হয়। সেখানে ইরানের কঠোর অবস্থান পাকিস্তানের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলিকে গভীর সংকটে ফেলেছে।
পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশটিতে জনজীবনে এই কড়াকড়ি বজায় থাকতে পারে।

