আকাশে নতুন আতঙ্ক: সুখোই সু-৩০ এমকেআই-তে যুক্ত হচ্ছে হাইপারসনিক আর-৩৭ এম মিসাইল

আকাশে নতুন আতঙ্ক: সুখোই সু-৩০ এমকেআই-তে যুক্ত হচ্ছে হাইপারসনিক আর-৩৭ এম মিসাইল

ভারতের বায়ুসেনার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত সুখোই সু-৩০ এমকেআই ফাইটার জেটে এবার যুক্ত হতে চলেছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দূরপাল্লার এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল ‘আর-৩৭ এম’। এই রুশ নির্মিত ক্ষেপণাস্ত্রটির সংযোজন ভারতীয় বায়ুসেনাকে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছে দেবে, যা আকাশযুদ্ধে শত্রুপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

আর-৩৭ এম: আকাশপথের ‘নির্ভুল স্নাইপার’

আর-৩৭ এম ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত দূরপাল্লার টার্গেট ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর বিশেষত্বগুলো হলো:

  • বিশাল পাল্লা: এই মিসাইলের আঘাত হানার ক্ষমতা প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার। ফলে প্রতিপক্ষের যুদ্ধবিমান বা নজরদারি বিমান (AWACS) ভারতের আক্রমণের সীমায় পৌঁছানোর অনেক আগেই সেগুলোকে ধ্বংস করা সম্ভব।
  • হাইপারসনিক গতি: এর গতি ম্যাক ৫ থেকে ৬-এর কাছাকাছি (শব্দের গতির ৫ থেকে ৬ গুণ)। এই বিপুল গতির কারণে শত্রুপক্ষ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বা পালানোর সময়টুকুও পাবে না।
  • মূল টার্গেট: আর-৩৭ এম মূলত শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমান, আকাশপথে জ্বালানি ভরার ট্যাঙ্কার এবং এডব্লিউএসিএস (AWACS) ধ্বংস করতে পারদর্শী। এই ধরণের সাপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট ধ্বংস হয়ে গেলে শত্রুপক্ষ কার্যত ‘অন্ধ’ হয়ে পড়ে, যা আকাশযুদ্ধে ভারতের জেতার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

কেন এই সংযোজন ‘গেম-চেঞ্জার’?

সুখোই সু-৩০ এমকেআই নিজেই একটি অত্যন্ত দক্ষ ও শক্তিশালী মাল্টিরোল ফাইটার জেট। তার শক্তিশালী রাডার এবং বিশাল অস্ত্রবহন ক্ষমতার সঙ্গে আর-৩৭ এম-এর বিধ্বংসী ক্ষমতা যুক্ত হওয়ায় এই প্ল্যাটফর্মটি একটি দূরপাল্লার ‘হান্টার-কিলার’-এ পরিণত হবে। পাকিস্তান বা অন্য কোনো প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রে এর মানে হলো, আকাশপথে কোনো ‘সেফ জোন’ বা নিরাপদ দূরত্ব আর অবশিষ্ট থাকবে না।

ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

আর-৩৭ এম ভারতের তাৎক্ষণিক সক্ষমতা বাড়ালেও, দীর্ঘমেয়াদী আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে ‘অস্ত্র এমকে-৩’ (গাণ্ডীব) ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। যার পাল্লা ৩৫০ কিলোমিটারের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, আর-৩৭ এম ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন সেতু হিসেবে কাজ করলেও, ভবিষ্যতে ‘অস্ত্র এমকে-৩’ হবে বায়ুসেনার চূড়ান্ত গন্তব্য।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আর-৩৭ এম-এর অন্তর্ভুক্তি পাকিস্তানের প্রতি ভারতের একটি স্পষ্ট ও কৌশলগত বার্তা—আকাশযুদ্ধের নিয়ম এখন বদলে গেছে। আগে যেসব সাপোর্ট এয়ারক্রাফ্টকে নিরাপদ মনে করা হতো, এখন সেগুলোও ভারতের নিশানায় থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.