আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে শরীর জলশূন্য হয়ে পড়া এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থা (হাইপোথ্যালামাস) যখন বাইরের অতিরিক্ত তাপমাত্রার সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ হয়, তখনই হিট স্ট্রোকের মতো বিপদ ঘটে।
হিট স্ট্রোক: কারণ ও লক্ষণসমূহ
শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে। অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপ ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে না পারলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা আচমকা বৃদ্ধি পায় এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হতে শুরু করে।
প্রধান লক্ষণ:
- হঠাৎ জ্ঞান হারানো বা খিঁচুনি হওয়া।
- তীব্র মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট।
- শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া এবং ত্বক বা চোখ লাল হয়ে যাওয়া।
- প্রবল অস্বস্তি, বমি ভাব এবং মানসিক বিভ্রান্তি।
জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন: বিপদ ও লক্ষণ
উচ্চ আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার কারণে অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে জল ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান বেরিয়ে যায়। সময়মতো পর্যাপ্ত জল বা ইলেকট্রোলাইট গ্রহণ না করলে দেখা দেয় জলশূন্যতা। এটি শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে হিট স্ট্রোকের পথ প্রশস্ত করে।
প্রধান লক্ষণ:
- প্রবল ক্লান্তি, ঝিমুনি ও পেশিতে খিঁচুনি।
- মুখগহ্বর শুকিয়ে যাওয়া এবং ঠোঁট ফাটা।
- প্রচুর ঘাম হওয়া এবং বমি বমি ভাব।
বিপদের ঝুঁকি এড়ানোর উপায়
হিট স্ট্রোক বা জলশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিচের পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করুন:
- তাত্ক্ষণিক শীতলীকরণ: অসুস্থ ব্যক্তিকে দ্রুত শীতল কোনো স্থানে, সম্ভব হলে এসি ঘরে নিয়ে যান।
- পোশাক ও আরাম: রোগীর শরীরের অতিরিক্ত পোশাক আলগা করে দিন যাতে শরীরে বাতাস চলাচল করতে পারে।
- পানীয় গ্রহণ: হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে রোগী অজ্ঞান থাকলে জল খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না। তবে ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে ঘরোয়া নুন-চিনির জল বা পাতিলেবুর শরবত ধীরে ধীরে খাওয়ানো যেতে পারে।
- হাসপাতালের সাহায্য: লক্ষণ গুরুতর হলে দেরি না করে রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনে স্যালাইন দেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: প্রচণ্ড রোদে বেশিক্ষণ বাইরে ঘোরাঘুরি এড়িয়ে চলুন। হালকা ও সুতির পোশাক পরুন এবং দিনের মধ্যে বারবার জল ও ওআরএস (ORS) পান করুন। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে এই গরমে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

