‘অলকাজির সঙ্গে আমার রসায়ন আজও অমলিন’, জন্মদিনে যাজ্ঞিকের দ্রুত আরোগ্য কামনায় কুমার শানু

‘অলকাজির সঙ্গে আমার রসায়ন আজও অমলিন’, জন্মদিনে যাজ্ঞিকের দ্রুত আরোগ্য কামনায় কুমার শানু

বলিউডের প্লেব্যাক ইতিহাসের অন্যতম স্বর্ণালী জুটি কুমার শানু এবং অলকা যাজ্ঞিক। আজ অলকা যাজ্ঞিকের জন্মদিনে স্মৃতির সরণি বেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধু কুমার শানু। বর্তমানে অলকা যাজ্ঞিক কানে শোনার সমস্যায় (Sensory Neural Hearing Loss) ভুগছেন, যার প্রভাব পড়েছে তাঁর কণ্ঠেও। এই খবরে মর্মাহত শানু তাঁর প্রিয় ‘ডুয়েট পার্টনার’-এর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

‘জুটি’ হিসেবে সেরার শিরোপা

কুমার শানু গর্বের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, অভিজিৎ ভট্টাচার্য বা উদিত নারায়ণের চেয়েও অলকা যাজ্ঞিক সবচেয়ে বেশি গান গেয়েছেন তাঁর সঙ্গেই। শ্রোতারা তাঁদের রসায়নকে কেবল গান হিসেবে নয়, একটি সফল ‘জুটি’ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। শানুর মতে:

“আমাদের রসায়ন নিয়ে কম হইচই হয়নি। আজও যদি আমরা একসঙ্গে গান গাই, সেই একই জাদু ধরা পড়বে। আসলে গান গাওয়ার জন্য মন পরিষ্কার রাখা জরুরি, যা আমাদের দুজনের মধ্যেই ছিল।”


অসুস্থতার খবরে বিষণ্ণতা

মাস ছয়েক আগে অলকা যাজ্ঞিক যখন ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত হন, তখন তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে ফোন করেছিলেন শানু। তখনই ওঁর পরিবারের কাছ থেকে গায়িকার কান ও গলার সমস্যার কথা জানতে পারেন তিনি। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে শানু বলেন, “খবরটা শুনে মনটা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এত বছর ধরে আমরা কত প্লেব্যাক, রিয়্যালিটি শো আর লাইভ অনুষ্ঠান করেছি! ওঁর অভাব মেটার নয়।”


স্টুডিওর সেই খুনসুটি ও ‘লেডিজ ফার্স্ট’

ব্যক্তিগত জীবনে অলকা যাজ্ঞিক অত্যন্ত সহনশীল এবং রসিক একজন মানুষ। স্টুডিওর দিনগুলি মনে করে শানু জানান, অলকা সবসময় আগে রেকর্ডিং শেষ করতে চাইতেন। শানু আগে পৌঁছালেও মজা করে মিউজিক ডিরেক্টরকে বলতেন, “লেডিজ ফার্স্ট”। এই সব খুনসুটিতে অলকা কখনোই রাগ করতেন না, বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপভোগ করতেন।

কালজয়ী কিছু সৃষ্টি

হাজার হাজার গানের মধ্যে কুমার শানুর পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে কিছু বিশেষ সিনেমা:

  • কয়ামত সে কয়ামত তক: এই ছবির গানগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
  • কুছ কুছ হোতা হ্যায়: রোমান্টিক ডুয়েটের ক্ষেত্রে যা এক অনন্য মাইলফলক।

প্রতিবেদনের শেষে কুমার শানু ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছেন যেন অলকা যাজ্ঞিক দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। তাঁর একটাই চাওয়া— প্রিয় বন্ধু যেন আবার মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ান এবং দুজনে মিলে আবারও কোনো কালজয়ী সুর সৃষ্টি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.