ক্রিকেট বিশ্বের সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়ল কাব্য মারানের ফ্র্যাঞ্চাইজি। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ ‘দ্য হান্ড্রেড’ (The Hundred)-এর নিলামে পাকিস্তানের রহস্যময় স্পিনার আবরার আহমেদকে (Abrar Ahmed) আড়াই কোটি টাকায় কিনে নিল সানরাইজার্স লিডস। আইপিএল এবং ভারতীয় ক্রিকেট মহলে এই খবর পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম কোনও পাকিস্তানি ক্রিকেটার কোনও ভারতীয় মালিকানাধীন দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।
নিলামের লড়াই ও কাব্যর জেদ
‘দ্য হান্ড্রেড’-এর এই নিলামে আইপিএলের চার ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের দল ছিল— এমআই লন্ডন (মুম্বই ইন্ডিয়ান্স), ম্যাঞ্চেস্টার সুপার জায়ান্টস (লখনউ সুপার জায়ান্টস), সাদার্ন ব্রেভ (দিল্লি ক্যাপিটালস) এবং সানরাইজার্স লিডস (সানরাইজার্স হায়দরাবাদ)। নিলামের আগে গুঞ্জন ছিল, ভারতীয় মালিকরা পাক ক্রিকেটারদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখবেন। হ্যারিস রউফ বা শাদাব খানের মতো তারকারা দল না পাওয়ায় সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়।
কিন্তু আবরার আহমেদের নাম উঠতেই ছবিটা বদলে যায়। ট্রেন্ট রকেটসের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর আড়াই কোটি টাকা খরচ করে আবরারকে দলে নেন কাব্য মারান। সানরাইজার্সের এই সাহসী পদক্ষেপের পরেই সমাজমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
নেটদুনিয়ায় ‘বয়কট সানরাইজার্স’ ট্রেন্ড
আবরারকে কেনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সানরাইজার্সের জার্সিতে তাঁর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়। এর পরেই শুরু হয় ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ:
- বয়কটের ডাক: আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে বয়কট করার দাবি তুলতে শুরু করেছেন নেটিজেনদের একাংশ। তাঁদের দাবি, যেখানে অন্য তিন মালিক পাক ক্রিকেটার কেনেননি, সেখানে কাব্য কেন ব্যতিক্রমী পথে হাঁটলেন?
- বিদেশি প্রীতি বনাম দেশপ্রেম: সমালোচকদের একাংশের মতে, সানরাইজার্স ভারতীয় ক্রিকেটারদের তুলনায় বিদেশিদের বেশি গুরুত্ব দেয়। উদাহরণ হিসেবে প্যাট কামিন্সকে দলের অধিনায়ক করার বিষয়টিও টেনে আনা হয়েছে (আইপিএলের ১০টি দলের মধ্যে একমাত্র সানরাইজার্সেই বিদেশি অধিনায়ক)।
- মুস্তাফিজুর প্রসঙ্গ: কেকেআর যেভাবে নিলামে কেনার পরও মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল, আবরারের ক্ষেত্রেও তেমন পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিচ্ছেন অনেকে।
আইপিএলের আগে অস্বস্তিতে হায়দরাবাদ
চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে আইপিএল ২০২৬। তার ঠিক আগে এমন বিতর্ক ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্র্যান্ড ভ্যালুতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সানরাইজার্স লিডস কর্তৃপক্ষ এখনও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ইংল্যান্ডের পিচে আবরারের স্পিন কতটা কার্যকর হয় এবং এই বিতর্কের আঁচ আইপিএলের ময়দানে কতটা পৌঁছায়, এখন সেটাই দেখার।

