পশ্চিমবঙ্গের কৃষিনীতিতে এক আমূল পরিবর্তনের সূচনা করলেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্ন থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় তিনি জানান, ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে পূর্বতন সরকারের জারি করা সমস্ত বিধিনিষেধ ও আইনি কড়াকড়ি অবিলম্বে তুলে নেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন তিনি।
আলু রফতানিতে ‘মুক্ত’ নীতি
এদিন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালকে পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রফতানি নীতিতে বদল আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “আগের সরকারের আমলে আলু ভিনরাজ্যে পাঠানোর ক্ষেত্রে যে সব বিধি ও বাধা ছিল, তা আজ থেকে অতীত। পুলিশ বা অন্য কোনও সংস্থা আর রফতানির কাজে বাধা দেবে না। আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের আর অহেতুক হয়রানির মুখে পড়তে হবে না।” শুধু আলু নয়, অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও একই ‘মুক্ত বাণিজ্য’ নীতি গ্রহণ করবে বিজেপি সরকার।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও ভোটের ‘ফসল’
রাজনৈতিক মহলের মতে, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমানের ‘আলু-বলয়’ গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করেছে। এককালীন তৃণমূলের এই দুর্গে ঘাসফুল এখন কার্যত নিশ্চিহ্ন।
- পূর্ব বর্ধমান: ২০২১ সালে ১৬টির মধ্যে ১৬টি আসন জিতেছিল তৃণমূল। এবার সেখানে তারা পেয়েছে মাত্র ২ টি আসন।
- হুগলি: ১৮টি আসনের মধ্যে ১৬টিতেই জিতেছে বিজেপি। সিঙ্গুর, হরিপাল, তারকেশ্বর ও পান্ডুয়ার মতো উর্বর আলুচাষের জমিতে এবার ফুটেছে পদ্মফুল। পরিসংখ্যান বলছে, দুই জেলার আলু-অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল ২৫টি আসনের মধ্যে ২১টি এবার জিতেছে বিজেপি। অথচ পাঁচ বছর আগে পরিস্থিতি ছিল ঠিক উল্টো।
ক্ষোভের অবসান ও ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
পূর্বতন সরকারের রফতানি বিরোধী নীতির কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশি তল্লাশি ও নানা প্রশাসনিক জটিলতায় অতিষ্ঠ ছিলেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আগের নীতির কারণে আমাদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছিল। ভিনরাজ্যে ব্যবসা শুরু করেও বন্ধ করে দিতে হতো। নতুন সরকারের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক।”
নেপথ্য কাহিনী
সূত্রের খবর, আলুনীতি নিয়ে গত বছর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। পূর্ব বর্ধমানের নেতারা নবান্নে ও দলীয় নেতৃত্বকে বিষয়টি জানালেও কোনও সুরাহা হয়নি। সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভই ইভিএমে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে আলু-বলয়ের মানুষের আস্থার মর্যাদা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

