পরমাণু অস্ত্র নেই ইরানের, ‘পারমাণবিক ধুলো’ হস্তান্তরেও রাজি তেহরান: দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

পরমাণু অস্ত্র নেই ইরানের, ‘পারমাণবিক ধুলো’ হস্তান্তরেও রাজি তেহরান: দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ইরান ও আমেরিকার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসানে বড়সড় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের কাছে বর্তমানে কোনও পারমাণবিক অস্ত্র নেই। শুধু তাই নয়, তেহরান তাদের মজুত রাখা উচ্চমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা ‘পারমাণবিক ধুলো’ আমেরিকার কাছে হস্তান্তরেও সম্মতি জানিয়েছে।

সমঝোতার পথে প্রধান বাধা অপসারণ

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে আয়োজিত শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার নেপথ্যেও ছিল এই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দিতে রাজি হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পথ প্রশস্ত হয়েছে।

‘পারমাণবিক ধুলো’ ও বি-২ বোমারু বিমানের হামলা

হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “ইরান আমাদের ‘পারমাণবিক ধুলো’ (উচ্চমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) ফেরত দিতে রাজি হয়েছে।” ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, গত বছর আমেরিকার বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের ইস্পাহান, নাতান্জ় এবং ফোরডোর পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে যে হামলা চালানো হয়েছিল, তার ফলে বিপুল পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মাটির গভীরে চাপা পড়ে যায়। সেই মজুত উপাদানগুলোই এখন হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

চুক্তি কি আসন্ন?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। তিনি অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে বলেন, “ইরানের সঙ্গে আমাদের অনেক বিষয়েই ঐকমত্য হয়েছে। আমার বিশ্বাস, খুব শীঘ্রই অত্যন্ত ইতিবাচক এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটতে চলেছে।” এই সমঝোতা সফল হলে বর্তমানে জারি থাকা সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

প্রেক্ষাপট ও কৌশলগত গুরুত্ব

ট্রাম্প এমন এক সময়ে এই দাবি করলেন যখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির বর্তমানে ইরান সফরে রয়েছেন। উল্লেখ্য, পাকিস্তান এই সংকটে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

ইউরেনিয়াম হলো পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে পারমাণবিক বোমা তৈরির মূল উপাদান। ইরান বরাবরই দাবি করে এসেছে যে তাদের পরমাণু কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। তবে ট্রাম্পের সন্দেহ ছিল ইরান গোপনে বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। সেই সন্দেহের জেরেই গত বছরের হামলা এবং পরবর্তী নিষেধাজ্ঞাগুলো জারি করা হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইরান শেষ পর্যন্ত এই ‘পারমাণবিক ধুলো’ হস্তান্তর করে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিম এশিয়ার ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.