গণতন্ত্রের ‘ইতি’ হবে, সরব প্রিয়াঙ্কা: সংসদীয় বিতর্কে মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে সংঘাত তুঙ্গে

গণতন্ত্রের ‘ইতি’ হবে, সরব প্রিয়াঙ্কা: সংসদীয় বিতর্কে মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে সংঘাত তুঙ্গে

বিরোধীদের প্রবল আপত্তি ও সংসদ উত্তাল করা বিতর্কের মধ্য দিয়েই বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ হলো ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ সহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল। এই বিলগুলির মাধ্যমে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করা এবং মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিল পেশ হওয়া মাত্রই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। বিরোধীদের অভিযোগ, মহিলা সংরক্ষণের মোড়কে আদতে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির রাজনৈতিক প্রভাব খর্ব করার চক্রান্ত করছে মোদী সরকার।

পেশ হলো তিনটি বিল

সংসদের বিশেষ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল যে তিনটি বিল পেশ করেন সেগুলি হলো: ১. ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল: যা মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করবে। ২. আসন পুনর্বিন্যাস বিল: লোকসভার সাংসদ সংখ্যা ৮৫০-এ উন্নীত করা। ৩. কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল।

বিল পেশ করা হবে কি না, তা নিয়ে ভোটাভুটি হলে ২৫১ জন সাংসদ পক্ষে এবং ১৮৫ জন বিপক্ষে মত দেন। সূত্রের খবর, শুক্রবার বিকেলেই এই বিলগুলির ওপর চূড়ান্ত ভোটাভুটি হতে পারে।

দাক্ষিণাত্য বঞ্চনার অভিযোগ ও প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্যারান্টি’

বিরোধীদের মূল আপত্তির জায়গা হলো আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation)। কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, জনগণনার আগেই আসন বাড়িয়ে বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে, যা দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দেবে। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা কড়া সুরে বলেন, ‘‘মহিলা সংরক্ষণের মোড়কে কেন্দ্র ওবিসিদের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। বর্তমান খসড়ায় বিল পাশ হলে দেশে গণতন্ত্রের ইতি ঘটবে।’’

পাল্টা যুক্তিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাক্ষিণাত্যের বঞ্চনার অভিযোগ খারিজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ‘গ্যারান্টি’ দিয়ে বলেন, ‘‘দক্ষিণী রাজ্যগুলি কোনওভাবেই বঞ্চিত হবে না।’’ অমিত শাহের দাবি, আসন কমবে না বরং বাড়বে।

‘কোটা’র মধ্যে ‘কোটা’ বিতর্ক

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সংরক্ষিত আসনের মধ্যে সংখ্যালঘু মহিলাদের জন্য পৃথক সংরক্ষণের দাবি তোলেন। এর তীব্র বিরোধিতা করে অমিত শাহ সাফ জানিয়ে দেন, ‘‘ভারতীয় সংবিধান ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর ভিত্তিতে কোনও সংরক্ষণ অনুমোদন করে না।’’

‘মেয়েরা ক্ষমা করবে না’: মোদীর হুঁশিয়ারি

বিতর্কে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, যারা এই বিলের বিরোধিতা করছে, দেশের মহিলারা তাদের কোনওদিন ক্ষমা করবে না। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করে জানান যে, তিনি এই বিলের কৃতিত্ব নিতে চান না। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে মোদী স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, ‘‘ওঁকে বলতে দিন, পশ্চিমবঙ্গে ওঁকে কেউ কিছু বলতে দেন না।’’

সাংবিধানিক জটিলতা

সংবিধানের ৮১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী লোকসভার বর্তমান সর্বোচ্চ আসন ৫৫২। কিন্তু সরকার ৮২ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধন করে জনগণনা শেষ হওয়ার আগেই আসন সংখ্যা ৮৫০-এ নিয়ে যেতে চাইছে। বিরোধীদের দাবি, ২০২৩ সালের বিলে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে জনগণনার পরই পুনর্বিন্যাস হবে, কিন্তু এখন সরকার সেই শর্ত এড়িয়ে তড়িঘড়ি আসন বাড়াতে চাইছে।

সংসদের এই বিশেষ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের বাকযুদ্ধ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.