ভারত-রুশ তেল বাণিজ্য: রফতানির তথ্য গোপনের ঘোষণা ক্রেমলিনের, তুঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক তরজা

ভারত-রুশ তেল বাণিজ্য: রফতানির তথ্য গোপনের ঘোষণা ক্রেমলিনের, তুঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক তরজা

ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির আবহে ভারত ও রাশিয়ার খনিজ তেল বাণিজ্য নিয়ে নয়া মোড়। ভারতে কত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল রফতানি করা হচ্ছে, সেই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিল রাশিয়া। শুক্রবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার এই বাণিজ্যিক লেনদেনের কোনও পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আনা হবে না।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারতকে দেওয়া বিশেষ ছাড়ের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মস্কোর এই কড়া অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

‘অশুভাকাঙ্ক্ষীদের’ থেকে তথ্য গোপনের কৌশল

সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, রাশিয়া এক সপ্তাহে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করতে সক্ষম। এই বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে দিমিত্রি পেসকভ শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “আমরা আমাদের অতি অশুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে তেল রফতানির এই তথ্য গোপন রাখব।” মূলত পশ্চিমী দেশগুলির নজরদারি এড়াতেই যে এই গোপনীয়তা, তা পেসকভের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট।

এরই মধ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত একটি উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, আরব সাগর থেকে বঙ্গোপসাগরের দিকে ভারতের পূর্ব উপকূলের শোধনাগারগুলির অভিমুখে একাধিক রুশ তেল ট্যাঙ্কার অগ্রসর হচ্ছে।

শুক্রবার সকালেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ঘোষণা করেছিল যে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সমুদ্রপথে আটকে থাকা রুশ তেল ট্যাঙ্কারগুলির ক্ষেত্রে ভারতকে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। মার্কিন অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট জানান, কেবল মাঝপথে আটকে থাকা জাহাজগুলির ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে রাশিয়ার থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। পরে তিনি দাবি করেন যে ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে, এবং সেই যুক্তিতেই শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। যদিও নয়াদিল্লি এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।

ভারতের কৌশলগত অবস্থান ও হরমুজ প্রণালীর সংকট

ইরান ও ইজরায়েল সংঘাতের কারণে বর্তমানে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ভারত তার মোট আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ এই পথেই সম্পন্ন করে। এই সংকটের মুহূর্তে রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, রাশিয়া ভারত ও চিনে তেলের সরবরাহ বাড়াতে প্রস্তুত এবং নয়াদিল্লির দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চায়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশের ‘জাতীয় স্বার্থ’ ই বাণিজ্যনীতির প্রধান ভিত্তি। কোনও নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে ভারত তেলের আমদানির উৎস বহুমুখী রাখতে বদ্ধপরিকর। ক্রেমলিনের বর্তমান অবস্থান এবং ওয়াশিংটনের নমনীয় মনোভাবের ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নতুন মাত্রা পেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.