রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের চূড়ান্ত হার প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে এই দফায় ভোট পড়েছে রেকর্ড ৯৩.১৯ শতাংশ। কমিশন জানিয়েছে, এবার ৩ কোটি ৩৬ লক্ষের বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
ভোটদানের পরিসংখ্যান ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার এই ১৫২টি আসনে ভোটার সংখ্যা ১৭ লক্ষ ৩৮ হাজার ১৪ জন কমেছে। গত নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ ১৫ হাজার ২৮৮ জন, যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৭৪ জনে। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া সত্ত্বেও, গতবারের তুলনায় এ বছর প্রকৃত ভোটদাতার সংখ্যা ২১ লক্ষ ৬৪ হাজার ২৬ জন বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২১ সালে এই আসনগুলিতে ভোটদানের হার ছিল ৮২.২০ শতাংশ। এবার তা বেড়ে ৯৩.১৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে এক বিরল রেকর্ড।
জেলাভিত্তিক চিত্র
- সর্বোচ্চ ভোটদান: কোচবিহার জেলায় ভোটের হার সর্বোচ্চ, ৯৬.২০ শতাংশ।
- অন্যান্য জেলা: দার্জিলিং ও কালিম্পং বাদে বাকি ১৪টি জেলাতেই ভোটদানের হার ৯০ শতাংশের বেশি।
- সর্বাধিক ভোটার: বাঁকুড়া জেলায় ভোটদাতার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যেখানে ২৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন।
ভোট বৃদ্ধির কারণ নিয়ে বিশ্লেষণ
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪০ লক্ষ ৪৬ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়ার ফলেই গাণিতিক হিসেবে ভোটের হার বেড়ে থাকতে পারে। কারণ, মোট ভোটারের সংখ্যা কমলে এবং ভোটদানের সংখ্যা স্থিতিশীল থাকলে শতাংশের হার বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক।
তবে শুধু হার নয়, প্রকৃত ভোটদাতার সংখ্যা বৃদ্ধিতে বেশ কিছু সামাজিক ও মানসিক কারণ কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা: ১. ভোট হারানোর আতঙ্ক: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার যে আশঙ্কা মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, তা থেকে রক্ষা পেতে বহু মানুষ বুথমুখী হয়েছেন। ২. সচেতনতা: ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিক ও চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ এবার ভোট দেওয়ার জন্য নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন। ৩. গণ-অংশগ্রহণ: গত বৃহস্পতিবার বুথগুলোতে ভোটারদের যে স্রোত দেখা গেছে, তা অভূতপূর্ব বলে দাবি করছে কমিশন।
গত বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং ভোটদানের এই রেকর্ড বৃদ্ধি রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

