গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৩ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ২৯ বছর বয়সী এক যুবকের নিথর দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ালো এলাকায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অতিরিক্ত মাত্রায় যৌনক্ষমতা বর্ধক ওষুধ সেবনের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
মৃত যুবক মহারাষ্ট্রের নাগপুরের বাসিন্দা এবং তিনি দিল্লির ‘কোয়ালিটি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া’-র অফিসে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে, যখন ওই যুবকের এক সহকর্মী বারবার ফোন করেও কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ করেন। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে পুলিশ যুবকের দেহ বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।
পুলিশের তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষা
পুলিশ তল্লাশির সময় ওই যুবকের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ এবং বিভিন্ন হেলথ সাপ্লিমেন্টের খালি প্যাকেট উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার কিছু সময় আগে তিনি তাঁর বাগদত্তাকে দেখা করার জন্য ডেকেছিলেন, তবে তাদের সাক্ষাতের আগেই যুবকের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গুরুগ্রাম সেক্টর ৫৩ থানার এসএইচও (SHO) সত্যেন্দ্র রাওয়াল সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, “আমরা ভিসেরা এবং উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলো পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবে (FSL) পাঠিয়েছি। ভিসেরা রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।” ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা
এই ঘটনা প্রসঙ্গে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যৌনক্ষমতা বর্ধক ওষুধ (যেমন—সিলডেনাফিল বা টাডালাফিল) সেবন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এগুলো নির্দিষ্ট মাত্রায় নিরাপদ হলেও, অতিরিক্ত সেবন, অন্য ওষুধের সঙ্গে মিশ্রণ বা আগে থেকে বিদ্যমান কোনো শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে এই ওষুধগুলো প্রাণঘাতী হতে পারে।
পুলিশের ধারণা, সঠিক নিয়ম না মেনে ওষুধ সেবনের কারণেই সম্ভবত যুবকটি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। তবে চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।

