নীতি আয়োগের দায়িত্বে বাঙালি মুখ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিশেষ বার্তা নরেন্দ্র মোদীর

নীতি আয়োগের দায়িত্বে বাঙালি মুখ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিশেষ বার্তা নরেন্দ্র মোদীর

কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি আয়োগের শীর্ষ পদে দুই বাঙালি ব্যক্তিত্বের নিয়োগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রবল চর্চা শুরু হয়েছে। সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ (ভাইস চেয়ারম্যান) অশোক লাহিড়ী এবং অন্যতম পূর্ণকালীন সদস্য বিজ্ঞানী গোবর্ধন দাস শনিবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিজেপি বিরোধী ‘বাঙালিবিরোধী’ প্রচারকে নস্যাৎ করার একটি কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা

প্রধানমন্ত্রী মোদী শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। নীতি আয়োগকে দেশের নীতি নির্ধারণ ও সংস্কারের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে অভিহিত করে তিনি লিখেছেন, “অশোককুমার লাহিড়ীর অর্থনীতি ও জননীতিতে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ভারতের ‘বিকশিত ভারত’ হয়ে ওঠার যাত্রাপথকে আরও শক্তিশালী করবে।”

অন্যদিকে, বিজ্ঞানী গোবর্ধন দাসের জনস্বাস্থ্য ও উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে অবদানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। নীতি আয়োগ পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে রাজীব গৌড়া, অধ্যাপক কেভি রাজু, অধ্যাপক অভয় করন্দিকর এবং এম শ্রীনিবাসকেও পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে নিয়মিত ‘বাঙালিবিরোধী’ হওয়ার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, এই নিয়োগ তার পাল্টা জবাব হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, অশোক লাহিড়ী বালুরঘাটের বিদায়ী বিধায়ক এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ। অন্যদিকে, গোবর্ধন দাস জেএনইউ-এর স্কুল অফ মলিকুলার মেডিসিনের অধ্যাপক।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গোবর্ধন দাস পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হলেও জয়ী হতে পারেননি। এবার অশোক লাহিড়ী নির্বাচনে টিকিট না পেলেও, কেন্দ্রের তরফে তাঁদের দু’জনকেই দেশের প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বোচ্চ স্তরে দায়িত্ব প্রদান করা হলো।

নীতি আয়োগের ভূমিকা

প্রধানমন্ত্রী পদাধিকারবলে নীতি আয়োগের চেয়ারম্যান। তাঁর পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ হলো ভাইস চেয়ারম্যান বা উপাধ্যক্ষ, যা এবার অশোক লাহিড়ীকে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, নীতি আয়োগ শুধু দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে মজবুত করে না, বরং এটি উদ্ভাবনী ও কৌশলগত পরিকল্পনার এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের দুই বাঙালি বুদ্ধিজীবীকে নীতি আয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্থান দিয়ে কেন্দ্র বার্তা দিল যে, প্রশাসনিক দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.