মোগাদিশু | নিজস্ব প্রতিবেদন বিগত বছরে বিশ্বজুড়ে একাধিক বিমান দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বছরের শুরুতে সোমালিয়ায় ঘটে গেল এক রোমহর্ষক বিমান দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুর এডেন আদ্দে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই একটি যাত্রীবাহী বিমান ভারত মহাসাগরের উপকূলে বিধ্বস্ত হয়। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও কঠিন পরিস্থিতির মাঝেও অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছেন বিমানে থাকা সমস্ত আরোহী।
ঘটনার বিবরণ ও যান্ত্রিক গোলযোগ
স্টারস্কাই এয়ারলাইন্সের ওই বিমানটি ৫০ থেকে ৫৫ জন যাত্রী নিয়ে গালমুদুগ রাজ্যের গুরি’ইলে যাচ্ছিল। সোমালি সিভিল এভিয়েশন অথরিটি সূত্রে জানা গেছে, উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটিতে গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাইলট দ্রুত মোগাদিশু বিমানবন্দরে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং ভারত মহাসাগরের উপকূলীয় বালুচরে গিয়ে আছড়ে পড়ে।
উদ্ধারকাজ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। সোমালি সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পরিচালক মোয়াল্লিম হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:
“উড্ডয়নের পরপরই বিমানে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। পাইলট ফিরে আসার চেষ্টা করলেও ইঞ্জিনের গোলযোগের কারণে নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছিল। ফলে বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে উপকূলে বিধ্বস্ত হয়।”
কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী ও ক্রু সদস্যকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। যদিও আহতদের সংখ্যা বা তাঁদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি।
ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান ও তদন্ত
দুর্ঘটনার জেরে বিমানটির ডানা ও ইঞ্জিনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কী কারণে এই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিল এবং পাইলটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর নেপথ্যে অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও তদন্ত শুরু করেছে সোমালি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।
গত এক বছরে সারা বিশ্বে ১০টিরও বেশি বড় বিমান দুর্ঘটনার পর মোগাদিশুর এই ঘটনায় প্রাণহানি না হওয়াকে বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল মহল।

