দেশের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও সুনিশ্চিত করতে নারী সংরক্ষণ আইনে বড়সড় সংশোধন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের লক্ষ্যে আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে সংসদে তিন দিনের একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। সোমবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘নারী শক্তি বন্দন’ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
২০২৯-এর মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, সংশোধিত এই আইন ২০২৯ সালের মধ্যেই কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং ‘নারী শক্তির’ প্রতি শ্রদ্ধা ও উৎসর্গ। পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই লক্ষ্যপূরণ করা হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও ভারতের সংসদ এক নতুন ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।”
স্থানীয় প্রশাসনে নারীর জোয়ার
দেশের প্রশাসনিক স্তরে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরেন:
- বর্তমানে ভারতের স্থানীয় প্রশাসনে ১৪ লক্ষেরও বেশি মহিলা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
- দেশের ২১টি রাজ্যে পঞ্চায়েত স্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে।
- বিদেশি প্রতিনিধিদের কাছে ভারতের এই চিত্র অত্যন্ত বিস্ময়কর এবং গর্বের বিষয় বলে তিনি দাবি করেন।
প্রশাসনের সংবেদনশীলতা ও দায়বদ্ধতা
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়লে প্রশাসনের সংবেদনশীলতা ও দায়বদ্ধতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। রাষ্ট্রপতির পদ থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব— সব ক্ষেত্রেই ভারতীয় নারীরা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মহিলারা যখনই সুযোগ পেয়েছেন, তখনই নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন।
সামাজিক ন্যায় ও সংস্কৃতি
মোদীর মতে, নারী সংরক্ষণ কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং এটি ভারতের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর সরকার মহিলাদের অধিকার রক্ষার মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি এখানে কাউকে উপদেশ দিতে আসিনি, বরং দেশের নারী শক্তিকে জাগ্রত করতে এসেছি। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলেই আজ লক্ষ লক্ষ মা-বোনদের আশীর্বাদ আমাদের সাথে রয়েছে।”
১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৯-এর লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে এই সংশোধনী বিল আগামী দিনে দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে এক আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে।

