ফিন অ্যালেনের শতরান নিশ্চিত করতে অঙ্ক কষেছিলেন গ্রিন! সমর্থকদের ‘ঘৃণা’ থেকে বাঁচতে নয়া কৌশল কেকেআর তারকার

ফিন অ্যালেনের শতরান নিশ্চিত করতে অঙ্ক কষেছিলেন গ্রিন! সমর্থকদের ‘ঘৃণা’ থেকে বাঁচতে নয়া কৌশল কেকেআর তারকার

আইপিএলের আসরে ব্যাট হাতে শুরুতে কিছুটা ম্লান থাকলেও ধীরে ধীরে স্বমহিমায় ফিরছেন ক্যামেরন গ্রিন। সেই সঙ্গে ছন্দে ফিরেছে তাঁর দল কলকাতা নাইট রাইডার্সও (কেকেআর)। টানা চার ম্যাচ জিতে প্লে-অফের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে তারা। তবে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে জয়ের রাতে দলের জয়ের থেকেও বেশি চর্চায় ২৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকার ক্রিকেটার ক্যামেরন গ্রিনের ‘অঙ্ক’। গ্রিন নিজেই জানিয়েছেন, সতীর্থ ফিন অ্যালেনের শতরান পূর্ণ করতে তিনি কীভাবে মাঠের মধ্যেই গণিত কষেছিলেন।


অ্যালেনের শতরান ও গ্রিনের আত্মত্যাগ

দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে মাত্র ১৪৩ রান তাড়া করতে নেমে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করেন ফিন অ্যালেন। ৪৭ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন এই কিউয়ি ওপেনার। ১৪৩ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে কোনও ব্যাটারের সেঞ্চুরি পাওয়া কার্যত অসম্ভব বলে মনে করা হয়। কিন্তু গ্রিনের নিঃস্বার্থ ব্যাটিং সেই পথ প্রশস্ত করে দেয়। নিজে বড় শট না খেলে প্রতিটি বলে এক রান নিয়ে অ্যালেনকে স্ট্রাইক দিয়ে গিয়েছেন গ্রিন।

ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রিন বলেন:

“যখন জিততে মাত্র ২৯ রান দরকার, তখন থেকেই আমি মনে মনে অঙ্ক কষছিলাম। ফিন তখন নব্বইয়ের ঘরে। আমার মাথায় একটা কথাই ঘুরছিল— ফিন যদি আজ সেঞ্চুরি করতে না পারে, তবে কেকেআর সমর্থকরা আমাকে আর আস্ত রাখবে না। আমি সমর্থকদের ঘৃণার পাত্র হতে চাইনি। ফিন নিজেও খুব ভাল অঙ্ক বোঝে, শেষ পর্যন্ত আমাদের পরিকল্পনা কাজে লেগেছে।”


১৫তম ওভারের নাটকীয়তা

কেকেআর যখন জয়ের দোরগোড়ায়, তখন জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৩ রান। স্ট্রাইকে থাকা গ্রিন জানতেন একটি বাউন্ডারি মারলেই ম্যাচ শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু অ্যালেন তখন ৯৪ রানে দাঁড়িয়ে। গ্রিন সচেতনভাবে একটি সিঙ্গল নিয়ে অ্যালেনকে স্ট্রাইক দেন। স্ট্রাইক পেয়েই অ্যালেন বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের শতরান পূর্ণ করেন এবং দলের জয় নিশ্চিত করেন। কেকেআরের ইতিহাসে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন ফিন অ্যালেন।

সাপোর্ট স্টাফদের প্রশংসা ও বিদেশি কোটার চাপ

লিগের প্রথম ছয়টি ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি কেকেআর। সেখান থেকে টানা চার ম্যাচ জয়ের রহস্য ফাঁস করেছেন গ্রিন। তিনি কৃতিত্ব দিয়েছেন দলের সাপোর্ট স্টাফদের। গ্রিনের মতে:

  • মানসিক চাপহীন পরিবেশ: হারের হ্যাটট্রিকের সময়ও সাপোর্ট স্টাফরা ক্রিকেটারদের ওপর কোনও চাপ তৈরি করেননি। বদলে খোলামেলা মেজাজে ক্রিকেট খেলার পরামর্শ দিয়েছেন।
  • বিদেশিদের দায়িত্ব: গ্রিন স্বীকার করেছেন যে বিদেশি ক্রিকেটারদের ওপর চাপ কিছুটা বেশি থাকে কারণ একাদশে মাত্র চারজনের জায়গা হয়। সেই দায়িত্ব তিনি ও বাকিরা হাসিমুখে পালন করতে পেরেছেন বলেই দল জয়ে ফিরেছে।

টানা চার জয়ের পর কেকেআর শিবিরের পরিবেশ এখন তুঙ্গে। আর ক্যামেরন গ্রিন যেভাবে নিজের ব্যক্তিগত রানের মায়া ত্যাগ করে সতীর্থের শতরানে সাহায্য করেছেন, তাতে সমর্থকদের ‘ঘৃণা’ নয় বরং ভালোবাসাই কুড়োচ্ছেন এই অজি অলরাউন্ডার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.