পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও, ভারতের ঘরোয়া বাজারে এলপিজি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কোমর বেঁধে নামল কেন্দ্রীয় সরকার। মূলত কালোবাজারি রোধ এবং আমদানির বিকল্প উৎস নিশ্চিত করার মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের সুরক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মজুত বৃদ্ধি ও বুকিং বিধিতে বদল
রান্নার গ্যাসের কৃত্রিম সংকট এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কালোবাজারি রুখতে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
- বুকিং সময়সীমা: গ্রাহকদের অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে গ্যাস মজুত করা থেকে বিরত রাখতে বুকিংয়ের ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে।
- সংকটের কারণ: তথ্য অনুযায়ী, আগে যাঁরা ৫৫ দিন অন্তর সিলিন্ডার বুক করতেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির আতঙ্কে তাঁরা ১৫ দিন অন্তর বুকিং শুরু করেছিলেন। এই বাড়তি চাপ সামাল দিতেই সময়সীমা ২৫ দিন করা হয়েছে।
উৎপাদন বৃদ্ধি ও শিল্পের গ্যাস ব্যবহারের অগ্রাধিকার
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে দেশের তেল শোধনাগারগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরবরাহ অটুট রাখতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: ১. বাণিজ্যিক সংযোগের তুলনায় ঘরোয়া এলপিজি সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ২. প্রয়োজনে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) ঘরোয়া প্রয়োজনে ডাইভার্ট বা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
আমদানি ও বিকল্প সরবরাহ পথ
ভারত শুধুমাত্র পশ্চিম এশিয়ার ওপর নির্ভরশীল না থেকে আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার পথে হাঁটছে।
- নতুন অংশীদার: এলপিজি আমদানির বিষয়ে আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নরওয়ের মতো দেশগুলির সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছে নয়াদিল্লি।
- অন্যান্য রুট: হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প পথ দিয়ে অশোধিত তেল আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে আমেরিকা, রাশিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারতীয় তৈল শোধনাগারগুলি।
পেট্রল-ডিজেল ও এটিএফ-এর স্থিতি
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পেট্রল, ডিজেল এবং বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানির (ATF) দাম আপাতত বাড়ছে না। কারণ দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। মন্ত্রকের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম যদি ব্যারেল প্রতি ১৩০ ডলার অতিক্রম না করে, তবে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।
পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে ভবিষ্যতে যাতে জ্বালানি সংকটে পড়তে না হয়, তার জন্য ভারত আগাম সর্তকতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সক্রিয় পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করেছে।

